উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানকে এক নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মঙ্গলবার তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি অবিলম্বে ‘হরমুজ প্রণালী’ (Hormuz Strait) খুলে দেওয়ার চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে ইরানের (US Iran Conflict) গোটা সভ্যতা পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেতে পারে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লিখেছেন, “একটি আস্ত সভ্যতা আজ রাতেই শেষ হয়ে যাবে, যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই হতে চলেছে।”
( @realDonaldTrump – Truth Social Post )
( Donald J. Trump – Apr 07 2026, 8:06 AM ET )A whole civilization will die tonight, never to be brought back again. I don’t want that to happen, but it probably will. However, now that we have Complete and Total Regime Change, where… pic.twitter.com/FAUValphlh
— Fan Donald J. Trump 🇺🇸 TRUTH POSTS (@TruthTrumpPosts) April 7, 2026
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্টে ছত্রে ছত্রে হুঁশিয়ারি। তিনি লেখেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটবে।’ তবে ট্রাম্প এখনও আশাবাদী ‘ইতিবাচক’ কিছু ঘটতে পারে। শেষ মুহূর্তে হয়তো অভিযান বাতিল করতে হতে পারে তাঁকে। নিজের পোস্টে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘এখন যেহেতু একটি শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ এবং সার্বিকভাবে পরিবর্তন হয়েছে, তাই সেখানে চমৎকার কিছু ঘটতে পারে।’ ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের বর্তমান শাসক বুদ্ধিমান এবং কম উগ্রপন্থী মানসিকতার মানুষ, তাই অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘আমরা আজ রাতেই সেটা জানতে পারব।’’ গোটা পোস্টের শুধু শেষেই ইরানের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করেছেন।
চরম সময়সীমা ও আক্রমণের পরিকল্পনা:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সময় রাত ৮টার ডেডলাইন শেষ হতে চলেছে। আমেরিকার দাবি মেনে না নিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন বাহিনী। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের হামলা যুদ্ধাপরাধের সামিল হতে পারে এবং এর ফলে সাধারণ ইরানি নাগরিকরা আমেরিকার চরম শত্রুতে পরিণত হতে পারে। গত ৬ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরি থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন যে আলোচনা এখনও চলছে।
খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলা:
ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। গত মাসেও এই দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা।বিশ্ব রাজনীতি এখন তাকিয়ে আছে ঘড়ির কাঁটার দিকে। ট্রাম্পের দেওয়া ডেডলাইন শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো বড় সংঘর্ষ শুরু হয় কি না, তা নিয়ে গোটা পৃথিবী আশঙ্কায় দিন গুনছে।

