গাজোল: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। চারিদিকে হোর্ডিং-ব্যানারে বিকশিত ভারতের প্রচার। অথচ এখনও বহু গ্রামে ন্যূনতম পরিশ্রুত পানীয় জল পাচ্ছেন না গাজোল ব্লকের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকার সূর্যদিঘি গ্রামের ৩৫টি আদিবাসী পরিবার। এই সমস্ত পরিবারের পানীয় জলের জন্য কোনও ব্যবস্থা করেনি সরকার। বাধ্য হয়ে ভাঙাচোরা ইদারার দূষিত এবং ঘোলা জল পান করতে বাধ্য হচ্ছে গ্রামবাসীরা। জানুয়ারি মাসে অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ বিভাগ এবং আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের তরফে একটি উন্নতমানের নলকূপ ওই গ্রামে বসানো হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই ওই নলকূপে জল ওঠেনি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
গাজোল ব্লকের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকার এই সূর্যদিঘি গ্রাম। গ্রামে বাস করে প্রায় ৩৫টি আদিবাসী পরিবার। কিন্তু এই সমস্ত পরিবারের পানীয় জলের জন্য কোনও ব্যবস্থা করেনি সরকার। গ্রামবাসী অনিল মুর্মু জানান, পানীয় জলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্ট ভোগ করে চলেছি আমরা। ১৩-১৪ বছর আগে ওয়ার্ল্ড ভিশন থেকে আমাদের গ্রামের তিনটে ইদারা করে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই পানীয় জল সংগ্রহ করি আমরা। কিন্তু বর্তমানে ইদারার জল প্রায় শেষ। এরপর পুকুরের জল খেতে হবে আমাদের।


গ্রামের মহিলারা জানান, ভোরবেলা উঠে খাবার জন্য ইদারা থেকে জল সংগ্রহ করতে হয় আমাদের। কিন্তু সেই ইদারার জল প্রায় শেষ। এখন যা অবস্থা তাতে বালতি ডোবে না। বাধ্য হয়ে ঘোলা জল নিয়ে যেতে হচ্ছে। সকালবেলা যে জল সংগ্রহ করি, নোংরা থিতিয়ে দিয়ে আসার পর সেই জল পান করি সন্ধ্যেবেলা। আর সন্ধ্যেবেলা যে জল নিয়ে আসি তা পান করি পরের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এভাবেই চলছে আমাদের দিন। রান্নাবান্না এবং বাসনপত্র ধোঁয়ার জন্য জল পুকুরের জল ব্যবহার করতে বাধ্য হই আমরা।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন জানান, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতটি পরিচালনা করছে বিজেপি। তাঁরা পঞ্চায়েত সমিতিকে কিছুই জানায়নি। তবে অতি দ্রুত যাতে ওই সমস্যার সমাধান করা যায় তার জন্য পঞ্চায়েত সমিতি এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

