শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Cooch Behar | এমজেএন মেডিকেল কলেজে পানীয় জলের আকাল

শেষ আপডেট:

কোচবিহার: হাসপাতালের কারমাইকেল ওয়ার্ডের উলটোদিকের প্রতীক্ষালয়ে বুধবার দুই বন্ধুর সঙ্গে বসেছিলেন তনুময় দাস। জল তেষ্টা পাওয়ায় তিনি প্রতীক্ষালয়ের পেছন দিক থেকে জল আনতে যান। কিন্তু সেখানে পড়ে রয়েছে আবর্জনা ও অব্যবহৃত জিনিসপত্র। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি পিপি ইউনিটের পাশে থাকা জলের মেশিনের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে জলের মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স। কোনওমতে জলের মেশিনের সামনে পৌঁছালেও দেখলেন কল দিয়ে জল পড়ছে না। অগত্যা বহির্বিভাগের উলটোদিকে পুরসভার তরফে যে জলের ট্যাংক রাখা রয়েছে সেখান থেকে জল খেয়ে তেষ্টা মেটান তিনি। ছবিটি এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের।

তনুময় একপ্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল অথচ এই পরিস্থিতি। কোথাও জলের মেশিনের সামনে আবর্জনা পড়ে রয়েছে। আবার কোথাও মেশিন থাকলেও জল নেই। অথচ এদিকে নজর দেওয়ারও কেউ নেই।’

পানীয় জলের সমস্যার কথা স্বীকার করে এমএসভিপি সৌরদীপ রায় বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা পূর্ত দপ্তরকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি খুব শীঘ্র এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

পিপি ইউনিটের পাশে থাকা ওই পানীয় জলের মেশিনটি ২০১৭ সালে সাংসদ তহবিলের অর্থানুকূল্যে বসানো হয়েছিল। সেই মেশিনটিও প্রায় বছরখানেক ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অভিযোগ, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। রোগীর পরিজনদের কথা মাথায় রেখে মেডিকেল কলেজ চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় পানীয় জলের মেশিন বসানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই মেশিনগুলির অধিকাংশ বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে পানীয় জল না পাওয়ায় রোগীর পরিজনরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। উপায় না পেয়ে তাঁরা হয় জল কিনে পান করছেন অথবা পুরসভার জলের ট্যাংক থেকে জল ভরে নিচ্ছেন।

হাসপাতালের এক কর্মী জানান, এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ঢুকতেই বাঁদিকে যে পানীয় জলের মেশিন রয়েছে মাসখানেকের বেশি সময় ধরে সেখান থেকেও জল পাওয়া যাচ্ছে না। এদিন বিকেলে জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে এসেছিলেন রুয়েল হক। পানীয় জলের বোর্ড লাগানো রয়েছে দেখে সেখানে গিয়ে জল না পাওয়ায় তিনি বলেন, ‘মেশিন থাকলেও জল নেই। এসব দেখা সত্ত্বেও কারও কোনও হেলদোল নেই।’

প্রতিদিন এমজেএন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য হাজারের বেশি মানুষ আসেন। পানীয় জলের সমস্যায় প্রতিদিনই তাঁদের নাস্তানাবুদ হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের এই পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Mistushree Guha
Mistushree Guhahttps://uttarbangasambad.com/
Mistushree Guha is working as Sub Editor. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Online. Mistushree is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Share post:

Popular

More like this
Related

Mahashivratri | মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে কনের সাজে ঠাকুরগঞ্জের ‘হরগৌরী’ মন্দির, শুরু হল মাসব্যাপী মেলা

কিশনগঞ্জ: রাত পোহালেই মহাশিবরাত্রি (Mahashivratri)। এই পুণ্য তিথিকে কেন্দ্র...

North Malda Railway Stoppage | উত্তর মালদায় রেল বিপ্লব, ৪ স্টেশনে শুরু হল মালদা টাউন-এনজেপি ট্রেনের স্টপেজ, উদ্বোধন করলেন সাংসদ খগেন মুর্মু

সামসী: উত্তর মালদাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে মালদা টাউন...

Balurghat | অন্ধ ঠাকুমার একমাত্র ‘চোখ’ এই নাতি! শৈশব তুচ্ছ করে ঠাকুমার যষ্ঠি ১৪-র বিজয়

পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: দুপুর গড়িয়ে গেলে চকশ্যাম নয়াপাড়ার কুঁড়েঘরটার...

Uttar Dinajpur | উঠোনে বাবার নিথর দেহ, পরীক্ষাকেন্দ্রে কলম হাতে সাজিদ! শোককে শক্তি করে জীবনের পরীক্ষা লড়াকু ছাত্রের

মহম্মদ আশরাফুল হক, চাকুলিয়া: পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সহপাঠীদের...