সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: স্কলারশিপ পেয়ে গেলেই বাড়ছে ড্রপ আউটের(Drop Out) সংখ্যা! একবার টাকা পেয়ে গেলেই উচ্চশিক্ষায় অনীহা দেখা যাচ্ছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পড়ুয়াদের মধ্যে। এমনই বিষ্ফোরক দাবি বালুরঘাট কলেজ কর্তৃপক্ষের।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনার পর থেকে এই সমস্যা চরমে উঠেছে। ন্যাকের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে বালুরঘাট কলেজকে। ড্রপ আউট রুখতে বালুরঘাট কলেজের(Balurghat College) অধ্যাপক ও কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাতেও লাভ হচ্ছে না। এই নিয়ে কলেজের তরফে এক কমিটিও গড়া হয়েছে। কমিটির রিপোর্টে এই উদ্বেগ ধরা পড়েছে। মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণেই এই পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিয়েছে বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা।


দক্ষিণ দিনাজপুরের অন্যতম বড়ো কলেজ বালুরঘাট কলেজ। এই কলেজে স্নাতকস্তরে প্রায় পাঁচ হাজার পড়ুয়া পড়াশোনা করেন। এছাড়াও এই কলেজের অধীনে বাংলা, সংস্কৃত ও ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। করোনার পর থেকে এই কলেজের দুই স্তরেই ড্রপ আউটের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে।
কলেজ সুত্রে জানা গিয়েছে, স্নাতকস্তরে যত পড়ুয়া ভর্তি হন তৃতীয় বর্ষের মধ্যে দেখা যায়, ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পড়ুয়া টিকে থাকেন। আবার স্নাতকোত্তরে তিন বিষয় নিয়ে প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া ভর্তি হলেও, ৪০ শতাংশ পড়ুয়ার ড্রপ আউট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবছর ন্যাক সহ বিভিন্ন জায়গায় কলেজের যে আভ্যন্তরীণ রিপোর্ট পাঠাতে হয়, সেই রিপোর্টেও এই ড্রপ আউটের বিষয়টি উঠে আসে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই নিয়ে জবাবদিহিও করতে হয়।
বালুরঘাট কলেজের অধ্যাপক রিপন সরকারের বক্তব্য, ‘স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে এই ড্রপ আউট বড় সমস্যাগুলির অন্যতম। আমরা এর কারণ হিসেবে যা পেয়েছি, তাতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর মধ্যে একটা কারণ দেখা যাচ্ছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের অধিকাংশ পড়ুয়া সরকারি স্কলারশিপ পাওয়ার পর থেকেই ড্রপ আউট হয়ে যাচ্ছেন।’
বালুরঘাট কলেজের অধ্যক্ষ ড: পঙ্কজ কুণ্ডুও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনার পর থেকেই এই ড্রপ আউটের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আর্থ-সামাজিক সমস্যার কারণেই এমন হচ্ছে। আমরা সমস্যাগুলো খুঁজে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।’

