উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় হাসিল করল মোহনবাগান। মঙ্গলবার যুবভারতীতে সেমিফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসিকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছাল সবুজ-মেরুন। এদিন টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের। ফাইনালে মোহনবাগান মুখোমুখি হবে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির।
এদিন, বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে শেষ ৩০ মিনিট যুবভারতীর সবুজ গালিচায় জাত চেনালেন বাগানের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ৫১ মিনিট পর্যন্ত মোহনবাগান পিছিয়ে ছিল ০-২ গোলে। সেমিফাইনালে প্রথম থেকেই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলছিল বাগান। নিজেদের গোল বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকেন শুভাশিস বসু, টম অলড্রেডরা। মোহনবাগানের ছন্নছাড়া ফুটবলের সুবিধা পায় বেঙ্গালুরু। ২৭ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগানের শুভাশিস বসু। ফলে বাগানের রক্ষণ আরও নড়বড়ে হয়ে যায়। এই সুযোগে বেঙ্গালুরুকে এগিয়ে দেন সুনীল ছেত্রী। ৪৩ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেন সুনীল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫১ মিনিটের মাথায় অলড্রডের একটি ব্যাক পাস বার করতে গিয়ে মিস্ করেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে বিনিথ ফাঁকা গোলে ঢুকিয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। দেখে মনে হচ্ছিল, হেরে মাঠ ছাড়তে হবে বাগানকে। এরপরই দলে পরিবর্তন আনেন কোচ মোলিনা। অলড্রেডকে তুলে গ্রেগ স্টুয়ার্টকে নামান তিনি। ৬৬ মিনিটের মাথায় ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বাগান। বক্সের মধ্যে মনবীরকে ফেলে দেন বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পায় বাগান। গোল করতে ভুল করেননি পেত্রাতোস। ফল দাঁড়ায় ১-২।
এদিকে মোহনবাগানের আক্রমণভাগকে সামলাতে হিমসিম খেতে শুরু করে বেঙ্গালুরু এফসি। বাধ্য হয়ে বেঙ্গালুরুর কোচ ডিফেন্সে লোক বাড়িয়ে ফেলেন। ফলে আক্রমণ করলেও গোলের মুখ খুলতে পারছিলেন না কামিংসেরা। ৮৪ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে ফিরতি বলে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ে জোরালো শটে বেঙ্গালুরুর জালে বলে জড়িয়ে খেলায় সমতা ফেরান থাপা। বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে দু’দলের প্রথম তিন ফুটবলারই গোল করেন। মোহনবাগানের হয়ে কামিংস, মনবীর ও লিস্টন এবং বেঙ্গালুরুর হয়ে মেন্ডেজ়, ভেকে ও পেদ্রো গোল করেন। মোহনবাগানের পেত্রাতোস চতুর্থ গোল করলেও বেঙ্গালুরুর চতুর্থ শট বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক বিশাল। পঞ্চম শটে বাগানের স্টুয়ার্টের শট বাঁচিয়ে দেন গুরপ্রীত। জোভানোভিচের পঞ্চম শটও বাঁচিয়ে দিয়ে দলকে ফাইনালে তোলেন বিশাল। ফলে এককথায় বলা যায় এদিনের ম্যাচের নায়ক বিশাল কাইথ। কোয়ার্টার ফাইনালের পর সেমিফাইনালেও দলকে জেতালেন বিশাল। বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে উঠল মোহনবাগান।

