সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতাঃ মোহনবাগান ক্যান্টিনে এদিন বিকেলের পর থেকে দেখা গেল, যাবতীয় খাবারই রোজকার প্রায় অর্ধেক পরিমাণে দিচ্ছেন ওখানকার কর্মীরা। সারাদিন মানুষের খাবারের চাহিদার জোগান দিতে নাভিশ্বাস সবুজ-মেরুনের বিখ্যাত ‘কাজুদা’–র।
মরশুমের প্রথম ট্রফির গন্ধ পেয়েই ক্লাব তাঁবুতে এত ভিড়। সেমিফাইনালের পরের দুইদিনেই প্রায় ২০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে খবর। এরপর আছে, ক্লাব সদস্যদের টিকিট থেকে অফলাইনের বিক্রি। শনিবারের বারবেলায় হাজার চল্লিশেক দর্শক হতেই পারে বলে আশাবাদী আয়োজকরা। তবে ফাইনালের দিন নিম্নচাপের আগাম পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। তাই প্রচণ্ড বৃ্ষ্টিতে যদি নর্থইস্ট ইউনাইটেড সুবিধা পেয়ে যায়, তাহলে অবশ্য আকাশের সঙ্গে মোহনবাগানিদের চোখের জল মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে। কোচ হুয়ান পেদ্রো বেনালিও এদিন হুংকার দিয়ে রাখলেন, ‘আমরা কিন্তু এখানে বেড়াতে আসিনি। ট্রফি জিততে এসেছি।’ তাতে অবশ্য ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি নয় মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের। কারণ খাতায়-কলমে তাদের দল তো ভারী বটেই, অ্যাটাক লাইন তো রীতিমতো ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো। এমনই অবস্থা কোচ হোসে ফ্রান্সিসকো মোলিনাকে কখনও গ্রেগ স্টুয়ার্টকে বসিয়ে রাখতে হয় তো কখনও জেসন কামিংস কী দিমিত্রিস পেত্রাতোসকে।


এদিন কথায় কথায় তো স্টুয়ার্ট তো বলেই ফেললেন, ‘অবশ্যই আমি প্রথম একাদশে শুরু করতে চাই।‘ যা শুনে মোলিনার আবার পালটা মন্তব্য, ‘শুধু গ্রেগ কেন, জেসন কামিংস, দিমিত্রিস পেত্রাতোস, সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা–সবাই শুরু করতে চায়। আর কোচ হিসাবে আমার কাছে এটা বড় পাওনা যে আমার দলে এত ভালো ভালো ফুটবলার আছে। যারা সকলেই পরিশ্রম করে নিজেকে এমন জায়গায় রাখছে যে বেঞ্চ থেকে এসে পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামলেই গোল পাচ্ছে। কোচ হিসাবে আমাকে সেরা দলটা বেছে নিতে হয়। কে সেদিনের জন্য তৈরি, সেটা দেখাই আমার কাজ।‘ জেমি ম্যাকলারেন, ধীরাজ সিং মৈরাংথেম ও আশিক কুরুনিয়ান ছাড়া বাকি সকলেই ফিট। এমন কথা মোলিনা জানানোয় এটা পরিষ্কার হয়ে যায় শুভাশিস বসু খেলার জন্য তৈরি। বৃহস্পতিবারের মতো এদিনও পুরো সময় অনুশীলন করলেন তিনি। তবে নড়াচড়া খানিক স্লথ তো বটেই, ডান পা-ও কম নাড়াচাড়া করতে দেখা গেল। নিজেদের মাঠে ওই বিশাল জনসমর্থন নিয়ে মাঠে নামার জন্য অনেকেই মনে করছেন, অ্যাডভান্টেজ মোহনবাগান। মোলিনা অবশ্য মানছেন না, ‘কোনও বাড়তি সুবিধা আমাদের নেই। এইসব ম্যাচ কখনও সহজ হয় না। ওরাও খুব ভালো দল। বিশেষকরে ওদের অ্যাটাক লাইন যথেষ্ট শক্তিশালী। ডিফেন্সও যথেষ্ট ভালো। নেস্টর আলবিয়াক খুব ভালো খেলছে। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল, ওরা দল হিসাবে খেলে।’ ঘটনা হল, মোহনবাগান যেখানে ১৩ গোল করেছে সেখানে নর্থইস্টের গোলসংখ্যা ১৬। এরপর অবশ্য মোলিনা একথাও বললেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা জেতার মানসিকতা তৈরি হয়ে গেছে। আমরা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই করব। আশা করি তারপর খুশি হয়েই বাড়ি ফিরতে পারব।’
আগের দুই ম্যাচই মোহনবাগানকে জিততে হয়েছে টাইব্রেকারে। ফাইনালেও তেমন হলে চাপ হয়ে যেতে পারে বলেই সম্ভবত মোলিনা জানিয়ে দেন, ‘আমি ৯০ মিনিটে ম্যাচ শেষ করতেই পছন্দ করি। টাইব্রেকারে না। তবে অনেক সময়েই কিছু করার থাকে না।’ তবে টাইব্রেকারে গেলে যে বিশাল কেইথই তাঁর সেরা বাজি সেটাও জানাতে ভুলছেন না। নর্থইস্ট এবার অবশ্য যে ছেড়ে কথা বলবে না, সেটা বলাই বাহুল্য। প্রথমবার ডুরান্ড ফাইনালে ওঠায় ইতিমধ্যেই শহরে পৌঁছে গিয়েছেন তাদের কর্ণধার জন আব্রাহামও। সবমিলিয়ে যুযুধান দুই দলই তৈরি মরশুমের প্রথম ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে।

