বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: দুর্গাপুজোর আর বাকি ২৫ দিন। ময়নাগুড়ি (Mainaguri) শহরের পৃথক তিনটি দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025)-র আয়োজন ঘিরে এখন চলছে চরম ব্যস্ততা। হাসপাতালপাড়া সর্বজনীন দুর্গা ও কালীপুজো কমিটির পরিচালনায় সুপার স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোর এবার ৬৬তম বর্ষ। পুরসভার ৬ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে এই পুজোর আয়োজন চলছে। অন্যদিকে, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্মশান মোড় মহিলা ইউনিটের দুর্গাপুজো ১৭তম বর্ষে পড়ল। এছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগরপাড়ার নারীশক্তি মহিলা পুজো কমিটির পুজোর এবার চতুর্থতম বর্ষ।
হাসপাতালপাড়া সর্বজনীন দুর্গা ও কালীপুজো কমিটির থিম সুন্দরবন। মণ্ডপসজ্জার কাজ করছেন মেদিনীপুরের শিল্পীরা। মৌচাক, ব্যাংয়ের ডাক, সবুজে ছেয়ে থাকবে মণ্ডপ। প্রতি বছরের মতো এবারেও ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। কৃতী ছাত্রছাত্রী, খেলোয়াড় এবং গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বারোয়ারি পুজো হলেও গোটা পাড়ার সকলেই এখানে একত্রিত হন। বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি পুজোর খরচ বাঁচিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পাদক প্রদ্যুৎ বিশ্বাস জানান, সবমিলিয়ে খরচ ধার্য করা হয়েছে ১৪ লক্ষ টাকা। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সবাইকে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হয় বলে জানান যুগ্ম সভাপতি দীপক চক্রবর্তী ও বরুণ ঘোষ। এছাড়া অষ্টমীর দিন ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে বলে জানালেন যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ সুদীপ সেনগুপ্ত ও দীপঙ্কর সরকার। মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মায়ের মূর্তি তৈরি করছেন ময়নাগুড়ির মৃৎশিল্পী নির্মল পাল।


অন্যদিকে, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড শ্মশান মোড় মহিলা ইউনিটের পুজো এবার ১৭তম বর্ষে পড়ল। ৩৫ থেকে ৪০ জন মহিলা এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন। প্রতি বছরই এই পুজো কমিটি মণ্ডপসজ্জার মধ্যে দিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে নতুন বার্তা পৌঁছে দেয়। তাদের থিম পরিবেশ সচেতনতা। সম্পাদিকা মঞ্জু সেনের কথায়, ‘পাড়ার সব পরিবার নিয়েই পুজো। এখানে উৎসবের আমেজ আলাদাই থাকে। আর খাওয়াদাওয়া মণ্ডপেই হয়।’ প্রতিমা তৈরি করছেন জলপাইগুড়ির মৃৎশিল্পী বিজন পাল।
গতানুগতিক জীবন ভুলে পুজোর ক’দিন মণ্ডপে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন আট থেকে আশি সকলেই বলে জানান উদ্যোক্তা পিয়ালি দত্ত ও মৃদুলা সাহা। পুজো সম্পন্ন করার চাপ থাকলেও সার্থকতা এখানেই বলে জানালেন সদস্যা চৈতালি সিনহা। পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে মণ্ডপসজ্জার কাজ চলছে। বাঁশ, প্লাইবোর্ড, মাটির সামগ্রী, ঘণ্টা, পিচবোর্ড এবং বিভিন্ন ধরনের কাপড় দিয়ে মণ্ডপ সাজানো চলছে। এদিকে, ‘আদিবাসী আঙিনা’-র থিমে সাজবে ৪ নম্বর ওয়ার্ড দেবীনগর নারীশক্তি মহিলা পুজো কমিটির মণ্ডপ। প্রতিমা তৈরি করছেন টেকাটুলির মৃৎশিল্পী হরিকিশোর রায়। এটা সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের আয়োজিত পুজো। সভানেত্রী মিলন দে’র কথায়, ‘ঘর-সংসার সামলে মহিলারাই এই পুজোর আয়োজন করি। পুজোর ক’দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে কাটাই। খাওয়াদাওয়ার আয়োজন মণ্ডপেই করা হয়।’ তবে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুজো হলেও ১০ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলারাও অগ্রণী ভূমিকা নেন। সবমিলিয়ে তিনটি পুজো কমিটিই জমজমাট আয়োজন করতে চলেছে।

