উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: যুদ্ধ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাঁড়াশি চাপে বিধ্বস্ত ইরান। একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার বিমান হামলায় (Israel-US strikes) রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি, তার মধ্যেই মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের গেরাশ (Gerash) অঞ্চলে আঘাত হানল ৪.৩ মাত্রার এক ভূমিকম্প (Iran Earthquake)। যদিও এই কম্পনে এখনও পর্যন্ত কোনও বড়সড়ো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি, তবে লাগাতার সামরিক অভিযানের মাঝে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
গত শনিবার থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তেহরান থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কেরমান বিমান ঘাঁটিতে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন ইরানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওই ঘাঁটিতে মূলত সামরিক হেলিকপ্টার রাখা হতো, যা এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান এখনই থামছে না। তাঁর কথায়, এই লড়াই কয়েক বছর না চললেও বেশ কিছু সময় ধরে চলবে। অন্যদিকে, ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহ এই অভিযান জারি রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা ইজরায়েলের নেই।
একদিকে আকাশপথে বিদেশি ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, অন্যদিকে পায়ের তলায় মাটির কম্পন— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরান এখন চরম অস্থিরতার কেন্দ্রে। একের পর এক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত আসায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন চাপের মুখে, তেমনই ভূমিকম্পের মতো ঘটনা জনমানসে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

