উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আইপ্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ইডির (ED in Supreme Court) জোড়া মামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অভিযোগ নয়, বরং একে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ‘তদন্তে হস্তক্ষেপের ধারাবাহিক ইতিহাস’ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডি এবং তাদের তিন আধিকারিক (নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা) শীর্ষ আদালতে যে পিটিশন দাখিল করেছেন, তাতে মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইডির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, আইপ্যাক দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশ এবং ফাইল নিয়ে যাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি তাঁর দীর্ঘদিনের ‘কৌশল’। এই যুক্তি প্রতিষ্ঠায় ইডি আদালতে একটি ‘প্যাটার্ন’ বা ধাঁচ তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, ২০১৯ সালে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানা থেকে শুরু করে ২০২১ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং নিজাম প্যালেসে ফিরহাদ-সুব্রতদের গ্রেপ্তারি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকারী সংস্থার সামনে ‘ঢাল হয়ে’ দাঁড়িয়েছেন। আইপ্যাক কাণ্ডে ফাইল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ইডি সরাসরি ‘চুরি’ ও ‘ডাকাতি’র সঙ্গে তুলনা করেছে এবং অভিযোগ করেছে, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই ইডির কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এই ‘অরাজকতা’র অভিযোগকে সামনে রেখেই সুপ্রিম কোর্টে চারটি সুনির্দিষ্ট ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে ইডি:
১. তথ্য সুরক্ষা: মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র বা ফাইলগুলি নিয়ে গিয়েছেন, তা থেকে যেন কোনো তথ্য মুছে ফেলা (Delete) বা ক্লোন না করা হয়, সে বিষয়ে অবিলম্বে আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
২. রক্ষাকবচ: কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে যুক্ত কোনো কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে বাংলা বা কলকাতার কোনো থানায় এফআইআর (FIR) নেওয়া যাবে না—এমন নির্দেশের আর্জি জানানো হয়েছে। ৩. স্থগিতাদেশ: শেক্সপিয়ার সরণি থানায় ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।
৪. তদন্ত হস্তান্তর: এবং সর্বোপরি, রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে সমগ্র ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইডি।
কেন্দ্রীয় সংস্থার যুক্তি, অতীতে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময়ও শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে লোক জড়ো করে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ এবং আধিকারিকদের আইনি সুরক্ষা একান্ত প্রয়োজন।

