দুর্গাপুর: কয়লা ও বালি পাচার মামলায় তদন্তের (Coal & Sand Smuggling Probe) গতি বাড়াতে মঙ্গলবার সাতসকালেই রণংদেহি মেজাজে মাঠে নামল ইডি (ED Raids)। এদিন সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ৯টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান এবং পান্ডবেশ্বরের মতো শিল্পাঞ্চলগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিরাপত্তায় মুড়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইডি সূত্রের খবর, কয়লা পাচারের ‘কালো টাকা’ হাওয়ালার মাধ্যমে ঠিক কোন পথে কোথায় যেত, তা জানাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, পাচারের ‘প্রোটেকশন মানি’ কারা নিত এবং কারাই বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করত, সেই প্রভাবশালী যোগসূত্র খুঁজছেন আধিকারিকরা।
এদিনের অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রবিন্দু দুর্গাপুরের অম্বুজানগরী। সেখানে বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালান গোয়েন্দারা। বাড়ির বাইরে মোতায়েন ছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। অন্যদিকে, বালি কারবারি প্রবীর দত্তের দুর্গাপুরের বাসভবন এবং আম্বেদকর সরণিতেও হানা দেয় ইডি। অভিযোগ উঠেছে, অজয় ও দামোদর নদ থেকে চ বালি উত্তোলন করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হত। সরকারি টেন্ডার থাকলেও অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে পাচার করা হত বলে অভিযোগ। এছাড়া বালির চালান জালিয়াতি করার অভিযোগ উঠেছে এইসব বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে। বীরভূমের ভুয়া চালান ব্যবহার করে পশ্চিম বর্ধমানে বালি পাচার এবং একটি চালানে একাধিকবার বালি পাচারের মতো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
তদন্তের জাল বিস্তৃত হয়েছে জামুড়িয়া বাজার এলাকাতেও। সেখানে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে এবং রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড়ে তাঁর হার্ডওয়্যারের দোকানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই বিপুল কারবারের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে অভিযুক্তরা পাহাড়প্রমাণ সম্পত্তি করেছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। এই অভিযানের পর আর কোন প্রভাবশালীদের নাম উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

