উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) মুখে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED raid at I-PAC)। এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়ে ময়দানে নামেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। সমস্ত নথি নিজের গাড়িতে নিয়ে বের হন তিনি। এদিকে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করে ইডির ব্যাখ্যা (ED’s allegation), সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে ফাইল ছিনতাই করা হয়েছে। দুটি জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। ইডির বক্তব্য, আইন মেনেই অভিযান চালানো হয়েছে।
আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে সশরীরে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে। কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের অফিসে অভিযান চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সেখান থেকে নথিপত্র এবং হার্ড ডিস্ক নিজের গাড়িতে তুলে নিয়েছেন, তাকে ‘সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার’ এবং ‘ফাইল ছিনতাই’ বলে পালটা অভিযোগ তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের আবাসে তল্লাশি শুরু করে ইডি। দুপুরে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। আইপ্যাক অফিস থেকে ফাইল নিয়ে বেরোনোর ঘটনায় ইডির দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইডি সূত্রের দাবি, তদন্তকারী আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে অফিসে অনুপ্রবেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ, আইন মেনে চলা একটি অভিযানে এভাবে হস্তক্ষেপ করা এবং নথিপত্র নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক ডাকাতি’ এবং নির্বাচনি তথ্য চুরির ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করলেও, ইডির ব্যাখ্যা—সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তাদের দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তের স্বার্থেই এই অভিযান জরুরি ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ফাইলগুলো নিজের জিম্মায় নিয়েছেন, তাকে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। একদিকে তৃণমূল যখন ‘নির্বাচনি তথ্য চুরি’র অভিযোগে আজ বিকেল ৪টেয় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে, অন্যদিকে ইডি-র এই পালটা অভিযোগের ফলে বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

