উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২২ থেকে ২০২৫-এর নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর জেলবন্দি দশাতেই কেটেছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee)। যদিও শেষের দিকে প্রায় ১ বছর অসুস্থতার কারণে একটি বেসরকারি হাসপাতালে (Hospital) ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে যখন হুইল চেয়ারে বসে সেই হাসপাতলের বাইরে এলেন, তখন দু’চোখ ছলছল করছে। এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতার সঙ্গে ‘বহিষ্কৃত’ তৃণমূল নেতাকে যেন মেলাতে পারলেন না তাঁরই অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অনুগামীরা। সংবাদ মাধ্যমকে দেখে হাতজোড় করে নীরবে পা বাড়ালেন নাকতলার বাড়ির দিকে। বহুদিন পর বাড়িতে ফিরতেই তাঁকে বরণ করে নিলেন আত্মীয়রা-পরিজনেরাও।

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরে বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশে ছাড়া পাওয়ার পর এদিন দুপুরে হাসপাতাল থেকে তিনি যখন বাড়িতে ফিরলেন, তখন তাঁকে বরণ করে নিলেন ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, ভাইঝি সহ পরিবারের বাকি সদস্যরা। বহুদিন পর প্রিয়জনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পার্থ। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে সোজা চলে গেলেন ঠাকুর ঘরে। আইনজীবি বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’

এদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী বাড়িতে পৌঁছনোর পর সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ল এখনও ঘরের মধ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি (CM Mamata Banerjee)। গ্রেপ্তারির পর ইডির মেমোতে দেখা গিয়েছিল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নম্বর। শোনা যায় গ্রেপ্তারির সকালে পার্থর ফোন ধরেননি নেত্রী। ফলে নেত্রীর সঙ্গে একপ্রকার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল পার্থর। তবে কখনও নেত্রীর প্রতি অনুযোগ শোনা যায়নি পার্থর কন্ঠে। দল বহিস্কার করলেও দলের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি প্রাক্তন মহাসচিব। সন্ধ্যে নাগাদ সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন পার্থ। তিনি বলেন, ‘আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যাঁরা আমাকে সৎ মানুষ মনে করে পর পর পাঁচ বার নির্বাচনে জিতিয়েছেন, আমি তাঁদের কাছেই বিচার চাইতে যাব।’ সত্যের জয় হবেই বলে আশা প্রকাশও করেন তিনি।


