উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হার্টের রোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ডিমের কুসুম (Egg Yolk) খাওয়া এড়িয়ে চলেন অনেকে। কোলেস্টেরল বাড়ার ভয়ে প্রোটিন-সমৃদ্ধ এই ‘সুপারফুড’ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেন অনেকে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণা কেবল সেকেলেই নয়, বরং অনেকটা ভিত্তিহীন।
কুসুম কি সত্যিই ক্ষতিকর?


চিকিৎসকদের মতে, ডিম খেলে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ে ঠিকই, তবে সেটি মূলত HDL বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’। এছাড়া ডিমে থাকা এলডিএল-এর বড় কণাগুলো শরীরের জন্য খুব একটা ক্ষতিকারক নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ডায়েটারি কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে একটি ডিমে থাকে মাত্র ১৬৭ মিলিগ্রাম। ফলে দিনে নিশ্চিন্তে একটি বা দুটি গোটা ডিম খাওয়া সম্ভব।
পুষ্টির ‘পাওয়ারহাউস’
ডিমের কুসুমের উপকারিতা অপরিসীম। ডিমের এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে। কুসুমে থাকা ‘খোলিন’ লিভারের ফ্যাট গলিয়ে শরীর ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। এতে থাকা লুটিন এবং জিজ্যান্তিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চোখের সুরক্ষা দেয় এবং বয়সের ছাপ ঠেকিয়ে রাখে।
মাছ বা মাংসের চেয়েও সামগ্রিক পুষ্টিগুণে ডিম এগিয়ে। এতে থাকা জিঙ্ক ও আয়রন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই হার্টের অসুখ বা কোলেস্টেরলের ভয়ে কুসুম ফেলে দেওয়া মানে পুষ্টির একটি বড় অংশ অপচয় করা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ ও পূর্ণবয়স্ক যে কেউ প্রতিদিন অন্তত একটি গোটা ডিম অনায়াসেই পাতে রাখতে পারেন। ভীতি কাটিয়ে বরং কুসুমের পুষ্টিগুণেই ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

