পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: গৌড়বঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গে মধ্যে রেলপথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল একলাখি জংশন (Eklakhi Junction)। অথচ দীর্ঘদিন এই স্টেশনে গাড়ির ইঞ্জিন বদলের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট হয়ে হয়রান হতে হয় যাত্রীদের। সেই সমস্যা কাটাতে এবার নতুন প্রস্তাব নিয়ে বালুরঘাটের সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) দ্বারস্থ হলেন একলাখি বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির সদস্যরা। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে তাঁদের দাবি, একলাখি জংশনে ‘ওয়াই-লেগ’ তৈরি হলে ভোগান্তি কমবে।
ওয়াই-লেগ মূল রেললাইনের সঙ্গে দুটি শাখা লাইনকে যুক্ত করে ইংরেজি ওয়াই-আকৃতি তৈরি করে। একলাখি জংশনে এই ব্যবস্থা তৈরি হলে ইঞ্জিনের অভিমুখ বদল বা রিভার্সাল ছাড়াই ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে। এতে প্রতিটি ট্রেনের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ মিনিট সময় বাঁচবে। অন্যদিকে, রিভার্সাল ও শান্টিং প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কমবে পরিচালন খরচ, জ্বালানি ব্যয় এবং অতিরিক্ত লোকবলের ব্যবহার। যাত্রা হবে আরও দ্রুত, স্বচ্ছন্দ ও যাত্রীবান্ধব।
বালুরঘাটের নিয়মিত যাত্রী শেখর দাসের কথায়, ‘ব্যবসার কাজে প্রায় প্রতি সপ্তাহে বালুরঘাট থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াত করি। একলাখিতে ট্রেন থেমে ইঞ্জিন বদলের কারণে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় তাড়াহুড়ো থাকলে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়। ওয়াই-লেগ তৈরি হলে আমাদের মতো নিত্যযাত্রীরা অনেকটা স্বস্তি পাবেন।’
একলাখি বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিশ্বর রায় জানান, ‘উন্নত রেল পরিষেবা, দ্রুত যাত্রা এবং যাত্রী সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আমরা এই প্রস্তাব দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রস্তাব বিবেচনার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে একলাখি জংশনের উন্নয়নে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।’
পরিবহণ ও কৌশলগত গুরুত্বে গৌড়বঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের রেল মানচিত্রে একলাখি জংশনের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বালুরঘাট–মালদা–নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথের সংযোগস্থল হওয়ায় প্রতিদিন এই জংশন স্টেশনের ওপর নির্ভর করেন হাজার হাজার যাত্রী। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জংশন দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক সমস্যার সম্মুখীন। প্রতিটি ট্রেনকেই এখানে ইঞ্জিনের অভিমুখ বদল করতে হয়। সময় অপচয়ের সঙ্গে বাড়ে লাইনে যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

