অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: রাস্তাঘাট, হাটবাজার, দোকানপাট- প্রায় সর্বত্রই একটা কথা কানে আসছে। এবারের নির্বাচন নাকি বাকি সব নির্বাচনের থেকে খানিকটা আলাদা। এই কথাটি কতটা ঠিক তা আলোচনাসাপেক্ষ। কিন্তু এবছরের নির্বাচনি প্রচার সত্যিই অন্যান্যবারের চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা। নির্বাচনি প্রচারের জন্য এবার প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের তরফেই বাঁধা হয়েছে ভোটের গান। পোশাকি নাম থিম সং। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) সদর বিধানসভার জন্য আলাদা করে গান বেঁধেছে কংগ্রেস ও সিপিএম।
এই থিম সং-য়ে এআই মানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলেজেন্সের ছোঁয়াও আছে। জলপাইগুড়িতে কংগ্রেসের প্রচারের জন্য গানটি তৈরি করেছে এআই।


এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের থিম সং ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মা-কে।’ এই গানের মধ্যে রাজ্য সরকারের কৃষকবন্ধু, যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ প্রতিটি প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে ‘খেলা হবে’ স্লোগানের লাইনও। এই গানে কেন্দ্র সরকারকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, ‘রাজধানীর ওই জমিদার যতই করুক অত্যাচার, যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মাকে।’ এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল মুখপাত্র তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘৬টি টোটো শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাচ্ছে। এছাড়াও প্রচার এবং জনসভায় থিম সং বাজানো হচ্ছে। গানের মাধ্যমে মানুষের মনে অনেক বেশি ছাপ ফেলা যায়।’
বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির থিম সং, ‘পালটানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’ এই গানের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার মান, বেকারত্ব, কাজ না পেয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি, কালো টাকা উদ্ধার, গোরু, বালি ও কয়লা চুরি, আরজি কর কাণ্ড ইত্যাদি ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে। শিল্প, শিক্ষা, নারী নিরাপত্তা দেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে এই গানের মাধ্যমে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা মিডিয়া ইনচার্জ জীবেশ দাসের কথায়, ‘এই গান মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। বিভিন্ন সভায় যখন গানটা বাজছে তখন মানুষের মধ্যে একটা স্পিরিট কাজ করছে।’
কংগ্রেসের থিম সং অন্য সব দলের থেকে বেশ খানিকটা আলাদা৷ কোনও মানুষ নয়। গান লেখা থেকে সুর দেওয়া, সবকিছুর পিছনেই রয়েছে এআই। এই গানের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার সমস্যাগুলো যেমন শিক্ষার পরিকাঠামো, রাস্তায় গর্ত, নিকাশিনালার বেহাল অবস্থা, হাসপাতাল পরিষেবা এইসব ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারকেই কটাক্ষ করা হয়েছে। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সমস্যা সমাধানের।
কংগ্রেসের টাউন ব্লক সভাপতি অম্লান মুন্সি বলেন, ‘আমরা সমস্ত সমস্যা লিখে দিতেই এআই গান রচনা থেকে সুর দেওয়া সব করে দিয়েছে। ৫টি টোটোতে করে শহরজুড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।’
এদিকে, জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার সিপিএমের প্রার্থীর প্রচারের জন্যও গান লিখে সুর দিয়েছেন দলের কর্মীরাই। এই প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, ‘আমাদের গানের মধ্যে দিয়ে চাকরি এবং ভোট চুরি, দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড, বন্ধ মিল, শ্রমিকের প্রাপ্ত মজুরি না পাওয়া- সব সমস্যার কথাই তুলে ধরা হয়েছে।’
ভোটের জন্য গান বেঁধেছে এসইউসিআই-ও। তাদের গান ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’-এর মাধ্যমে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

