উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে যখন কোমর বেঁধে নেমেছে দিল্লির নির্বাচন সদন, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। নিজের কেন্দ্রের বুথ সংখ্যা কত, তা বলতে না পারায় খোদ কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষককেই (Election Observer Removed) দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেন তিনি। বুধবার বৈঠকে কোচবিহার (Cooch behar) দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদবকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার তাঁদের সঙ্গেই একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন সূত্রে খবর, বৈঠকে কোচবিহার দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদবকে তাঁর এলাকার বুথ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন জ্ঞানেশ। কিন্তু বেশ কিছুদিন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে থাকলেও, সেখানে মোট কতগুলি বুথ রয়েছে তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি অনুরাগ।
জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষোভ
পর্যবেক্ষকের এমন উত্তর শুনে ক্ষুব্ধ হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি প্রশ্ন তোলেন— যিনি নিজের এলাকার বুথ সংখ্যা বা ভৌগোলিক পরিস্থিতির মতো সাধারণ বিষয়ই জানেন না, তিনি কীভাবে নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার দেখভাল করবেন? অনুরাগের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে জ্ঞানেশ কুমার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ও নির্দেশিকা
নির্বাচন প্রক্রিয়া পক্ষপাতহীন এবং স্বচ্ছ রাখতে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চের মধ্যেই পর্যবেক্ষকদের নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলি যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারে, তার জন্য তাঁদের যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বরও প্রকাশ্যে আনার কথা। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বরাদ্দ রাখতে হয়। এই অবস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রে কতগুলো বুথ আছে, তা নখদর্পণে না থাকা কার্যত অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবেই দেখছে কমিশন। ভোটের মুখে কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ অন্যান্য আধিকারিকদের জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

