শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: যেন মেরেও শান্তি নেই!
এক রাত আগেই প্রেমের পথ থেকে কাঁটা উপড়ে ফেলেছিল সুলকাপাড়ার ‘মস্তান’। এরপর সঙ্গিনী সহ গা-ঢাকা দেয় সে। তবে ‘জব পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া?’ লুকিয়ে থাকা যে তার স্বভাব নয়, তাই স্পষ্ট করে এলাকায় ফিরল প্রেমিক দাঁতাল (Elephant Battle in Dooars)। ফেরা মানে শুধু ফেরা নয়। রীতিমতো এলাকায় রেইকি করে, ঢুঁ মেরে গিয়েছে আগের রাতের অকুস্থলে। চাক্ষুষ করে গিয়েছে সাফাঝোরার জলাশয়ের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর লাশ। বনকর্মীরা জানাচ্ছেন, শুধু রাতে নয়। রবিবার সকালেও ওই দাঁতালকে (Elephant Attack) দেখা গিয়েছে সুলকাপাড়া লাগোয়া খেরকাটার জঙ্গলে। এমনকি, খেরকাটা গ্রামের রাস্তাও পার হয়েছে সে।
এদিকে রবিবার ময়নাতদন্তের পর মৃত মাকনা হাতির দেহ সৎকারের কাজ শুরু করেছে বন দপ্তরের ডায়না রেঞ্জ। বিশাল বড় গর্ত খুঁড়ে তার ভেতরে দাহ করা হচ্ছে প্রয়াত প্রেমিক গজরাজের দেহ। অন্ত্যেষ্টি শেষ হতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে বনকর্তারা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমেছেন বন আধিকারিকরা। খেরকাটার জঙ্গলে একপাল হাতি এখন ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে বলে খবর। তবে দাঁতালটি সেই পালের সদস্য কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় বন দপ্তর।
হস্তী বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ময়নাতদন্তে (Autopsy) মৃত মাকনার সারা দেহে অসংখ্য দাঁত দিয়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের অনুমান, ঘাতক হাতিটি দাঁত দিয়েই হামলা চালিয়েছিল। তবে সম্ভবত মাকনা হাতি তার দাঁতের নাগাল পায়নি। আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। ওই আঘাতের ফলেই মৃত্যু হয় মাকনার। এদিকে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, সঙ্গিনী দখলে হাতির লড়াই মোটেই নতুন ঘটনা নয়। এমনকি, রবিবার খুনে দাঁতালের এলাকায় ফেরাও যথেষ্ট স্বাভাবিক বলে দাবি তাঁদের। একবার জয়ী হলে এভাবেই গর্ব জাহির করে জঙ্গলের বাসিন্দারা। তবে সাধারণত, হার অবশ্যম্ভাবী বুঝলে রণে ভঙ্গ দিয়ে এলাকা ছাড়ে দুর্বল বুনো। কেন এক্ষেত্রে আহত মাকনা পালাল না? কেন শেষ পর্যন্ত লড়াই করে মারা গেল সে? এইসব প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে প্রাণীবিদদের।

