সানি সরকার, শিলিগুড়ি : এলিভেটেড করিডরে চাপা পড়তে পারে ব্যবসা, এই আশঙ্কা এখন কুরে-কুরে খাচ্ছে সেবক বাজারের বাসিন্দাদের। কীভাবে ভবিষ্যতে রুটিরুজির সংস্থান হবে, বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই। তবে আন্দোলন নয়, বিকল্প পথের দিকে তাকিয়ে ব্যবসায়ীদের বড় অংশ। সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পে ট্রেনের চাকা গড়ালে কিছুটা আয়ের সংস্থান হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। কিন্তু সিকিমের পথে ট্রেন কবে ছুটবে, এখনও অনিশ্চিত। বন ও পরিবেশমন্ত্রকের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত শুরু হচ্ছে না এলিভেটেড করিডরের কাজও। যদিও দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টের দাবি, ওই ছাড়পত্র পেতে বেশি সময় লাগবে না। তিন বছর পরই এলিভেটেড করিডর দিয়ে ছুটবে গাড়ি। একারণেই এখন দোলাচলে সেবক বাজার।
বনাঞ্চল যাতে ধ্বংস না হয়, সেইজন্য সেবকে এলিভেটেড করিডর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেবক সেনাছাউনি থেকে সেবক বাজার পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রাস্তার জন্য সড়ক পরিবহণমন্ত্রক বরাদ্দ করেছে ১,৪০০ কোটি টাকা। বন ও পরিবেশমন্ত্রক থেকে ছাড়পত্র মিললেই কাজ শুরু হবে দ্রুত। আর এমন খবরে ভবিষ্যৎ কী হবে, বুঝে উঠতে পারছেন না সেবক বাজারের বাসিন্দারা। যেহেতু এলিভেটেড করিডর, ফলে সম্পূর্ণ রাস্তাটাই কার্যত উড়ালপুল। অর্থাৎ দোকানগুলি থাকবে রাস্তার অনেকটা নীচে। এখানকার ব্যবসা যেহেতু পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল, ফলে গাড়ি না দাঁড়ালে রুটিরুজি জুটবে কোথা থেকে, প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের।
সেবক বাজারে ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে দেবরাজ শর্মার। তিনি বলছেন, ‘সিকিম, কালিম্পংয়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের একটা বড় অংশ সেবকে দাঁড়ান টিফিন করার জন্য। এখন ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করলে সেই সুযোগ থাকবে না।’ একারণেই যে এখানকার ব্যবসায়ীরা আশঙ্কিত, তা বোঝা গিয়েছে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে। বিষ্ণু গুরুংয়ের কথায়, ‘স্থানীয়দের ওপর নয়, আমাদের ব্যবসা নির্ভরশীল পর্যটকদের ওপর। করিডরের উপর থেকে পর্যটকরা তো আর নীচে নেমে আসবেন না, ফলে চরম ক্ষতি হবে।’
তবে করিডরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথে হাঁটার কথা ভাবছে না সেবক বাজার। বরং বিকল্প কিছু একটা ব্যবস্থা হবে, মনে করছেন অনেকেই। এখানকার প্রবীণ বাসিন্দা বিমল খাওয়াসের বক্তব্য, ‘কালিঝোরায় যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে, তা সেবকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আন্দোলন করে আমরা রুখে দিয়েছিলাম। কালিঝোরার উন্নতি দেখে মনে হয়, আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।’ আন্দোলনে সায় নেই চায়ের দোকান চালানো বিমল দামেরও। বরং আরও অনেকের মতো তিনিও সেবক-রংপো রেলপ্রকল্প নিয়ে আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, ‘করিডরের জন্য একদিকে ব্যবসার ক্ষতি হবে ঠিকই, কিন্তু সেবক এবং সিকিমের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হলে সিংহভাগ পর্যটক ট্রেনে যাতায়াত করবেন। তাঁরা সেবক স্টেশন থেকে আমাদের এখানেই আসবেন। নিশ্চয়ই রুটিরুজির ব্যবস্থা হবে।’

