উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাথমিকে (Primary teacher recruitment case) ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিলেও নিয়োগে দুর্নীতির কথা মেনে নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই দুর্নীতির কারণে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি একলপ্তে বাতিল করতে রাজি হয়নি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। তাদের বক্তব্য, ‘২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল, প্রায় ৯ বছর চাকরি করার পর যদি কারও চাকরি বাতিল হয়, তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
হাইকোর্ট জানিয়েছে, দুর্নীতির তদন্ত যেভাবে চলছে চলবে। কিন্তু দুর্নীতি হয়েছে বলেই সকলের চাকরি বাতিল করে দেওয়া যায় না। আদালত এ-ও বলেছে, চাকরি করার সময় ওই চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেনি। কয়েক জনের জন্য গোটা নিয়োগপ্রক্রিয়ার ক্ষতি করা যায় না।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষার (TET Exam) ভিত্তিতে ২০১৬ সালে ৪২৫০০ শিক্ষকের নিয়োগ হয় প্রাথমিক স্কুলগুলোতে। কিন্তু নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে। সেই সময় দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় ৩২ হাজার জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দেন তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানান, পরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ ওই রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলে। যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়, বলা হয়, মামলাটি শুনবে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এরপর এই মামলা বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি সেন। পরে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবরর্তী ও ঋতব্রতকুমার মিত্রের বেঞ্চ চাকরি বাতিলের নির্দেশ পুরোপুরি খারিজ করে দেন।

