নয়াদিল্লি: চলতি বছরের শেষে গুরুত্বপূর্ণ অস্ট্রেলিয়া সফর। পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শ্রেষ্ঠত্বের টক্কর। প্রতীক্ষিত যে দ্বৈরথে ভারতীয় পেস ব্রিগেডের অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন অর্শদীপ সিং। বিদায়ি বোলিং কোচ পরস মামব্রের বিশ্বাস, স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের দেশেই হয়তো টেস্ট অভিষেক ঘটতে চলেছে তরুণ পেসারের।
টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর অর্শদীপ। সুইং এবং পেসে গোটা টুর্নামেন্টে অস্বস্তিতে ফেলেছেন ব্যাটারদের। জসপ্রীত বুমরাহকে পিছনে ফেলে মেগা আসরে দলের সর্বোচ্চ ১৭ উইকেটও তাঁর পকেটে। সাফল্যের হাত ধরে এবার টেস্ট ক্যাপও পাওয়ার হাতছানি।


বিশ্বজয়ী বোলিং কোচ পরসের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় চারজন পেসারও খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে হয়তো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্ট অভিষেকের ভালো সুযোগ অর্শদীপের সামনে।
মামব্রের মতে, ‘পুরোটাই নির্ভর করবে পরিবেশের ওপর। অস্ট্রেলিয়ায় চারজন সিমার খেলালে ওর সুযোগ থাকবে। ভারতের মাটিতে এই মুহূর্তে অবশ্য সম্ভাবনা কম। অর্শদীপের উচিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মনোনিবেশ করা এবং সুইংয়ে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। জানতে হবে রিভার্স সুইংও। খাটতে হবে ফিটনেস নিয়ে।’
অর্শদীপের চাপ নেওয়ার ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রাক্তন বোলিং কোচ। পরসের মতে, কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে পরিণতবোধের ছাপ রেখেছে অর্শদীপ। টি২০-তে দক্ষতার প্রতিফলন ঘটেছে। ক্রমশ উন্নতির ছাপ ওডিআইতেও। অর্শদীপকে পরসের পরামর্শ, টেস্টের জন্য তৈরি হতে প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ঘষেমেজে নিতে হবে।
সাড়া জাগিয়ে উত্থানের পর ক্রমশ পিছনের সারিতে উমরান মালিক। বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণের অভাবকেই দুষছেন পরস। রাহুল দ্রাবিড়ের সাপোর্ট টিমের অন্যতম পরসের যুক্তি, উমরানের গতি রয়েছে। রয়েছে প্রতিভাও। কিন্তু শুধু গতি হলে হবে না। নিয়ন্ত্রণ জরুরি। উমরানের ক্ষেত্রে যার বড় অভাব। ফলে সমস্যায় পড়ছে। অধিনায়কদের আস্থা হারাচ্ছে। পরসের টিপস, সমস্যা মেটাতে রনজি ট্রফিকে কাজে লাগাক কাশ্মীরি স্পিডস্টার।
ভারতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে পেয়েছেন একঝাঁক তরুণ পেসার। ঘষেমেজে যাদের উন্নতির পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঘাম ঝরিয়েছেন। ছাত্রদের সাফল্যের খুশিটা নিয়ে পরস বলেছেন, ‘যখন দায়িত্ব নিই পেস ব্রিগেডে পালাবদল চলছে। ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদবদের থেকে চোখ সরিয়ে আগামীর ভাবনা উঁকি দিচ্ছিল। এইসময় জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সামি, মহম্মদ সিরাজের মতো তিনজন পেসারকে পেয়েছি। রাহুল দ্রাবিড়, আমরা মিলে একটা দল তৈরির চেষ্টা করেছি পরবর্তী চার বছরের কথা ভেবে। গুরুত্ব পেয়েছে তারুণ্য। অর্শদীপ, আবেশ খান, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমাররাও প্রতিভার প্রমাণ রেখেছে। সবমিলিয়ে ওদের সঙ্গে কাজ করা উপভোগ করেছি।’

