উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, চারদিকে বরফের সাদা চাদর আর তার মাঝেই এক মর্মস্পর্শী দৃশ্য। মানুষ যেখানে প্রতিকূল আবহাওয়ার কাছে হার মেনে ঘরে বন্দি থাকে, সেখানে এক পোষ্য পিটবুল প্রমাণ করে দিল—বিশ্বস্ততার কোনও ভাষা হয় না। হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলার ভরমোরে মৃত মালিকের দেহের পাশে টানা চার দিন ঠায় বসে পাহারা দিল এক বিশ্বস্ত কুকুর।
নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর দেহ উদ্ধার
সম্প্রতি ভরমোরের ভরণী মন্দিরের কাছ থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন বিকশিত রানা এবং পীযূষ নামে দুই যুবক। প্রবল তুষারপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা বরফের নিচে আটকা পড়ে প্রাণ হারান। ঘটনার চার দিন পর যখন উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা ওই এলাকায় পৌঁছান, তখন তারা দেখেন এক করুণ অথচ বিস্ময়কর দৃশ্য।
বরফের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে এক যুবকের নিথর দেহ, আর তার ঠিক পাশেই প্রবল শীত উপেক্ষা করে বসে আছে তার পোষা পিটবুলটি।
মৃত্যুর পরেও অটুট পাহারা
জানা গেছে, এই চার দিনে ওই অবলা প্রাণীটি এক দানাও খাবার মুখে তোলেনি। হিমাচলের হাড়কাঁপানো হাওয়া এবং তুষারঝড় উপেক্ষা করে সে এক মুহূর্তের জন্যও মালিকের পাশ থেকে নড়েনি। শুধু আবহাওয়া নয়, বুনো জানোয়ারের হাত থেকেও নিজের মৃত মালিককে রক্ষা করে গেছে এই সাহসী সঙ্গী।
উদ্ধারকারীদের বাধা ও শেষ বিদায়
উদ্ধারকারী দল যখন মৃতদেহটি উদ্ধার করতে যায়, তখন কুকুরটি প্রথমে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সম্ভবত সে ভেবেছিল আগন্তুকরা তার মালিকের ক্ষতি করতে এসেছে। পরে উদ্ধারকারীদের অনেক চেষ্টা এবং আদরের মাধ্যমে তাকে শান্ত করা হয়। কুকুরটি যখন বুঝতে পারে তারা সাহায্য করতে এসেছে, তখনই সে সরে দাঁড়ায় এবং দেহটি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
মানুষের প্রতি পশুদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আনুগত্য আরও একবার সমাজকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। মৃত্যুকে ছাপিয়ে এক অবলা প্রাণীর এই লড়াই আজ মানুষের কাছে বড় এক শিক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

