বালুরঘাট: ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র পেতে বালুরঘাট হাসপাতালের সুপারের হাতে একটি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দিয়েছিলেন গঙ্গারামপুরের প্রাণসাগরের এক দম্পতি। শংসাপত্রটি হাতে পড়তেই সুপারের দপ্তরের কর্মীরা বুঝতে পারেন, সেটি নকল। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও জানায় এমন কোনও জন্মের নজির নেই তাঁদের নথিতে। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সই থেকে শুরু করে অফিসের সিল সবই নকল করা হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন কর্মীরা। কোথা থেকে শংসাপত্র পেয়েছেন, জানতে চাওয়া হয়। অবস্থা বেগতিক বুঝে পালান তিনি। বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দুবিকাশ বাগ। তিনি বলেন, ‘সার্টিফিকেট হাতে পড়তেই বুঝেছি, সেটি নকল। এই ধরনের নকল সার্টিফিকেট আগেও আমাদের দপ্তরে জমা পড়েছে। এ বিষয়ে থানা ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছি।’ পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির রমরমা ব্যবসা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে এই চক্র নকল সার্টিফিকেট তৈরি করছে বলে আগেও অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু সেভাবে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিনের পর দিন এই চক্র আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে মিলছে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র, খাদ্য সুরক্ষার জন্য জারি করা র্যাশন কার্ড সহ যাবতীয় ভুয়ো নথি। এর আগেও বালুরঘাট পুরসভায় একইভাবে জাল ডিজিটাল সার্টিফিকেট জমা করা হয়েছিল। ঘটনায় ওই শিশুর বাবা সহ দালালচক্রের অনেককেই গ্রেপ্তার করে বালুরঘাট থানার পুলিশ। কী কারণে এত জাল সার্টিফিকেট তোলার হিড়িক লেগেছে তা নিয়ে ফের তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে।

