রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে জাল জন্ম শংসাপত্র (Fake birth certificate) কাণ্ডে এবার মুর্শিদাবাদ-যোগ পেল শিলিগুড়ির মেট্রোপলিটান পুলিশ। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) খরগ্রামের পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর জন্ম শংসাপত্র মিলেছে। অন্যদিকে, শুধু জাল জন্ম শংসাপত্রই নয়, এবার পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিসিপির সই নকল করা ‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’ও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
গোটা ঘটনার তদন্তে নেমে রীতিমতো রাতের ঘুম উড়েছে পুলিশের। শিলিগুড়ি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিসিপি’র নাম করে যে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট বানানো হয়েছে সেগুলি মূলত চাকরির ক্ষেত্রে পাসপোর্ট তৈরির জন্য ব্যবহার করা হত। কিন্তু শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) নামে কোনও পদই আদতে নেই। সেই থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এরপরেই অভিযুক্তদের একজনের মোবাইল ফোন ঘেঁটে জাল নথিগুলি সব উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর জাল বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য দপ্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। মুর্শিদাবাদের খরগ্রামের কোনও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরও যোগসাজশ রয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি)। বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের এসিপি (ডিডি) দেবাশিস বসু বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর থেকে অনেক তথ্য আমরা পেয়েছি। সমস্ত সার্টিফিকেট এখন ‘ভেরিফাই’ করতে পাঠানো হচ্ছে। সেগুলির রিপোর্ট পেলেই কোথা থেকে সব সার্টিফিকেট তৈরি হল সেটা তদন্ত করা হবে।’’
দু’দিন আগেই শিলিগুড়ির (Siliguri) শিবমন্দির এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিডি। ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এজেন্ট এবং দুজন কারবারি রয়েছে। ওই এজেন্টরা একদমই তৃণমূল স্তরের। এদের কাজ ছিল শুধু ওই শংসাপত্রগুলি পৌঁছে দেওয়া। বাকি যে দুজন কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজনের ফোন ঘাঁটতে গিয়ে তদন্তকারীরা একাধিক তথ্য পেয়েছেন।
তদন্তে দেখা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের খরগ্রামের বেশ কিছু জন্ম শংসাপত্র রয়েছে অভিযুক্তের ফোনে। সেখানেই শিলিগুড়ি পুলিশের নামে তৈরি করা ‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’-ও মিলেছে। ডিজিটাল স্ট্যাম্প এবং সই রয়েছে ডিসি এসবি’র। এগুলি নিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তদন্তকারীদের সে জানিয়েছে, বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে জাল ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হত। এতটাই দক্ষতার সঙ্গে ওই সার্টিফিকেট বানানো হয় যে সহজে কেউ ধরতেই পারবে না। কী করে অভিযুক্ত শিলিগুড়ি পুলিশের লেটারহেডের ধরন পেল তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে জন্ম শংসাপত্রগুলি পাওয়া গিয়েছে সেগুলি একটিও ভেরিফাই করা হয়নি। যে কারণে অনায়াসেই শংসাপত্র তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। তাই শিলিগুড়ি পুরনিগম এবং পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতকে চিঠি দিয়ে জন্ম শংসাপত্রগুলি ভেরিফাই করার অনুরোধ জানাচ্ছে শিলিগুড়ি পুলিশ। আদৌ ওই নামে কেউ রয়েছে কি না সেটা জানতে চাওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী জন্ম শংসাপত্রের জন্যে কেউ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট পুরসভা কিংবা গ্রাম পঞ্চায়েতকে ভেরিফাই করার জন্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা ভেরিফাই করে রিপোর্ট দিল সেই শংসাপত্র বৈধ ধরা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভেরিফাই করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

