সৌরভ দেব ও অভিষেক ঘোষ, জলপাইগুড়ি ও মালবাজার : জলপাইগুড়ির বাসিন্দার নামে ইস্যু হওয়া ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার হচ্ছে দিল্লির অপারাধমূলক কাজে। সিম জালিয়াতি কাণ্ডে তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। শুধুই দিল্লি নাকি আরও কোনও রাজ্যে অনলাইন প্রতারকদের হাতে জলপাইগুড়ি বাসিন্দাদের নামে ইস্যু হওয়া ভুয়ো সিম কার্ড রয়েছে তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অপরাধীদের ধরতে সচেষ্ট হয়েছে পুলিশ। সোমবার ভুয়ো সিম কার্ড কাণ্ডে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মালবাজার থানার পুলিশ। মালবাজার স্টেশন রোডের দৈনিক বাজার এলাকায় একটি মোবাইলের দোকানে হানা দিয়ে দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দোকানের মালিক পলাতক। সিম জালিয়াতি কাণ্ডে তদন্তে জেলায় পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা সুপার পুলিশ (গ্রামীণ) সমীর আহমেদের নেতৃত্বে ওই সিট গঠন করা হয়েছে।
এদিন নতুন ভুয়ো সিম কার্ড কাণ্ডে করে ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, ‘সিম জালিয়াতি কাণ্ডে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।’
সিম কার্ড জালিয়াতি নিয়ে জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালের তথ্য হাতে পেয়ে তদন্ত শুরু করে জেলার বিভিন্ন থানার পুলিশ। তাতেই উঠে আসে মাল, মেটেলি এবং নাগরাকাটা থানা এলাকার তিনজন সিম বিক্রেতার নাম। যারা সাধারণ মানুষের ভুল বুঝিয়ে তাদের আধার নম্বর দিয়ে একাধিক সিম ইস্যু করেছেন। যে সিমগুলো রাজ্যের বিভিন্ন অবৈধ কলসেন্টারের পাশাপাশি ভিনরাজ্যের অনলাইন প্রতারকদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে মাল থানা এলাকা থেকে অর্ণব দত্ত নামে সিম কার্ড বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার নামে ৩০টি পয়েন্ট অফ অ্যাক্টিভেশন রয়েছে। যার মানে সিম কার্ড অ্যাক্টিভেশনের জন্য বিক্রেতাদের কাছে একটি করে ‘মাস্টার সিম কার্ড’ কোম্পানি থেকে দেওয়া হয়। এমনই মাস্টার সিম কার্ড অর্ণবের কাছ থেকে পুলিশ ৩০টি উদ্ধার করেছে। প্রশ্ন উঠেছে কোম্পানি কীভাবে একজনকে এতগুলো পয়েন্ট অফ অ্যক্টিভেশন সিম কার্ড ইস্যু করল। তাহলে কি অর্ণব সিম জালিয়াতি করার জন্য মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের থেকে বেনামে অ্যাক্টিভেশন সিম কার্ড নিয়েছে। অর্ণবের কাছে যদি ৩০টি পয়েন্ট অফ অ্যাক্টিভেশন সিম উদ্ধার হয়। তাহলে সে কতগুলো বেনামি সিম কার্ড ইস্যু করেছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। অর্ণবকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে এই সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অন্যদিকে, জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে ইস্যু হওয়া ১৬৬টি সিম কার্ড অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করছে প্রতারকরা বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে মাল, মেটেলি, নাগরাকাটা বাদেও ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি শহর এলাকা থেকেও বেনামি সিম কার্ড ইস্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে এই তিনটি থানা থেকেও নতুন করে সিম কার্ড জালিয়াতি সক্রান্ত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জলপাইগুড়ি শহর এলাকার একটি দোকান থেকে মালবাজারের এক মহিলার নামে একটি সিম কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। যেটি দিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে দিল্লির সাউথ ইস্ট সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই ঘটনারও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শহরের সেই ব্যবসায়ীকেও তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

