রূপেন্দু দাস, মালদা: সকাল ১০টায় খোলে কোর্ট। তার অনেক আগেই চলে আসেন বাপ্পা সিং, অমিত মণ্ডল, অজয় হালদাররা। সকাল সকাল পৌঁছে যান রাজু সিং। এদের সকলের রয়েছে বইয়ের দোকান। মিঠু হালদারের রয়েছে খাবারের দোকান।
রাজ্যে নানা প্রান্তে ফুটপাথ দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ করা হয়েছে হকারদের। উচ্ছেদের আগে অবশ্য পুরসভা থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা নোটিশ পাওয়ার পরেও ফুটপাথ থেকে সরে যাননি, তাঁদের দোকান ভাঙা পড়েছে। বহু ব্যবসায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন। কোর্ট চত্বরে ব্যবসায়ীরা এখনও পুরসভা থেকে নোটিশ পায়নি। পেলে কী করবে, তা নিয়ে তারা রীতিমতো চিন্তিত।


কোর্ট চত্বরে হকারের সংখ্যা ২৫। প্রথম দিকে অধিকাংশের দোকান ছিল আদালত চত্বরের ভিতরে। আদালত থেকে আপত্তি ওঠায় এখন বাইরে বসতে হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে ব্যবসা করলেও এই হকাদের নিজস্ব কোনও সংগঠন নেই। ফলে চিন্তা (Fear of eviction) তাদের অনেকের থেকে বেশি।
পড়াশোনার পু্রোনো বই বিক্রি করেন বাপ্পা সিং। বই আসে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে। নতুন বই কেনার সামর্থ্য যাঁদের নেই, তাঁদের জন্য বইয়ের দোকান খুলেছেন বাপ্পা। আবার অনেকে বেশি টাকা দিয়ে বই কিনতে চায় না। তাঁরাও বাপ্পার দোকানে বই কিনতে আসে। উচ্ছেদ হলে কোথায় যাবেন, জানে না বাপ্পা। বলে, ‘এই দোকান বহু পুরোনো। ১০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করি। উচ্ছেদ করলে অবশ্যই সমস্যায় পড়ব।’
সমান উদ্বিগ্ন অমিত মণ্ডলও। তিনি বলেন, ‘আদালত চত্বর থেকে সরে যেতে বললে কোথাও যাব জানি না। এখনও নোটিশ পাইনি।তবে রাজ্যের নানা প্রান্তে উচ্ছেদ হওয়ার খবর বেশ চিন্তায়।পরিবার কীভাবে চলবে জানি না।’
বহু বছর ধরে পুরোনো বই বিক্রি করছেন অজয় হালদার। এত বছর ধরে ব্যবসা করলেও সংগঠন তৈরি না হওয়ায় বেশ চিন্তায় তিনি। রাজ্যে নানা প্রান্তে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সংগঠন। প্রয়োজনে মালদা আদালত চত্বরের ব্যবসায়ীরা ওয়ার্ড কাউন্সিলার কাকলি চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর সাহায্য চাইবেন।
কোর্ট চত্বরে খাবারের দোকান রয়েছে মিঠু হালদারের। চা ছাড়াও নানা ধরনের খাবার বিক্রি করেন মিঠু। বাকিদের মতো সেও চিন্তায় রয়েছে।

