শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: শীতকালীন উৎপাদন বন্ধ নিয়ে এবছর বাগানগুলির ওপরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিল টি বোর্ড (Tea Board)। তাই আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। তবে দেখা যাচ্ছে, এই ছাড়কে কাজে লাগিয়ে এখনও কিছু ফ্যাক্টরি ও বাগান শুখা মরশুমে কাঁচা পাতা দিয়ে নিম্নমানের উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসতেই কড়া পদক্ষেপ করার কথা ঘোষণা করল টি বোর্ড। একটি নির্দেশিকা জারি করে বোর্ড জানিয়েছে, ফ্যাক্টরিতে আচমকা পরিদর্শন করা হবে। সংগ্রহ করা হবে চায়ের নমুনা। পরীক্ষার পর গুণগতমান নিয়ে নেতিবাচক রিপোর্ট মিললে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।
টি বোর্ডের ওই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে, এক শ্রেণির উৎপাদক এখনও খারাপ মানের পাতা দিয়ে চা তৈরি করে যাচ্ছেন। এর ফলে বাজার হারাচ্ছে উত্তরবঙ্গ সহ দেশের উত্তর-পূর্বের চা শিল্প। টি বোর্ডের নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।’ চা বণিকসভা আইটিপিএ-র ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, ‘গুণগতমানের সঙ্গে কোনও আপস কখনোই কাম্য নয়।’
তবে শীতের মরশুমে কবে থেকে চা উৎপাদন বন্ধ থাকবে, তা নিয়ে এবার টি বোর্ড কোনও নির্দেশিকা দেয়নি। বাগানগুলি নিজেরাই শীতকালীন পরিচর্যার কাজ শুরু করে দেয়। নিজেদের সিদ্ধান্তেই উৎপাদন বন্ধ রাখার প্রথা ৭ বছর পর ফিরে আসে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির রাজ্যে। গত বছর টি বোর্ড ৩০ নভেম্বর থেকে শীতের শুখা মরশুমের উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করে। যা নিয়ে পরে বিস্তর হইচই হয়। আগেভাগেই উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় বাগানগুলিকে প্রচুর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ তুলেছিলেন চা শিল্পপতিরা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে টি বোর্ডের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। চা বণিকসভাগুলির আপত্তির কারণেই এবছর টি বোর্ড কোনও নির্দেশিকা জারির রাস্তায় হাঁটেনি।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শীতের সময় চা গাছের সুপ্তাবস্থা চলে। ফলে ভালোমানের দুটি পাতা একটি কুঁড়ি এসময় মেলে না। ফেব্রুয়ারি-মার্চ এর নতুন মরশুমের ফার্স্ট ফ্লাশ শুরু হওয়ার আগে এসময়ে চা গাছের যত্নআত্তি অত্যন্ত জরুরি। তবেই পরে স্বাদ-গন্ধে ভরা নতুন কুঁড়ি মিলবে। তা না করে এক শ্রেণির উৎপাদক নিম্নমানের পাতা দিয়ে এখনও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে টি বোর্ডের পর্যবেক্ষণ। সেকারণেই শক্ত অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে টি বোর্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে টি বোর্ড শীতকালীন উৎপাদন বন্ধ নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে আসছিল। শেষ ৬ বছরের (২০১৮-২০২৩) তথ্য অনুযায়ী, ওই তারিখ ডুয়ার্স-তরাই-এর চা বাগানগুলির জন্য ছিল যথাক্রমে ১৫, ১৭, ১৮, ১৯ এবং ২৩ ডিসেম্বর। ২০২৪-এ তা এগিয়ে ৩০ নভেম্বর করা হয়েছিল।

