খড়িবাড়ি: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে খড়িবাড়ি কল্যাণপুর এলাকায় সর্বস্বান্ত হল দুটি পরিবার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ললিত বর্মন ও লালবাবু বর্মনের বাড়িতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের মোট ৬ টি ঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘরের সমস্ত সামগ্রী এবং নগদ অর্থও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনকি অগ্নিকাণ্ডের দরুন আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় ৫ টি গবাদি পশুর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ১ ঘন্টা বাদে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে লালবাবু বর্মণের বাড়িতে আগুন লাগে। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। পাশের দিদার বাড়িতে থাকা পরিবারের একটি ছোট্ট শিশু হঠাৎই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে পাড়ার লোকজন ছুটে এসে কুয়োর জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এই চেষ্টার মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।


সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার ফলে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে আগুন লেগে যায় ললিত বর্মণের বাড়িতেও। মুহূর্তের মধ্যে দুটি বাড়ির ৬টি ঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘরের ভেতর রাখা সমস্ত টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য সহ কোনও জিনিসই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় মানুষ আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। যদিও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দমকল আসার আগেই অধিকাংশ জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
খবর পেয়ে নকশালবাড়ি দমকলের দুটি ইঞ্জিন ও খড়িবাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বাকি আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয়দের মধ্যে বিট্টু জয়শোয়াল বলেন, ‘খড়িবাড়িতে দমকল কেন্দ্র না থাকায় প্রায় একঘন্টা পর দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে।’ স্থানীয়রা খড়িবাড়িতে একটি দমকল কেন্দ্র স্থাপনের দাবি করেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ কিশোরীমোহন সিংহ ও বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনিতা রায় ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্যের আশ্বাস দেন।

