কোচবিহার: মাত্র একটা বিমান সংস্থাই কোচবিহারে বিমান চালাত। নির্বাচনের মুখে সেই পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সোমবার সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কোচবিহার বিমানবন্দরের আধিকারিককে চিঠি দিয়ে এই কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আর কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে তাদের বিমান চলবে না। তবে কী কারণে তারা কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দিচ্ছে, সে বিষয়ে অবশ্য স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। বন্ধের কারণ প্রসঙ্গে তারা শুধু ‘অপারেশনাল মোড’-এর কথা উল্লেখ করেছে। চিঠি পাওয়ার পর কোচবিহার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি কোচবিহার বিমানবন্দরে আবার অন্ধকার নেমে আসবে?
বিমানবন্দর সূত্রেই খবর, এখনও পর্যন্ত কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা চালু করার ব্যাপারে বিকল্প কোনও বিমান সংস্থার নাম উঠে আসেনি। একটা সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেটা মৌখিক স্তরেই রয়েছে। অফিশিয়াল কিছু হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কোচবিহার বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার আধিকারিক শুভাশিস পাল বলেন, ‘ইন্ডিয়া এয়ার ওয়ান নামে বিমান কোম্পানি গত প্রায় তিন বছর ধরে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে তাদের বিমান চালাত। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি আজকে আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা এখান থেকে তাদের বিমান চালাবে। তারপর আর চালাবে না। বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
রাজার শহর কোচবিহারে বিমান পরিষেবা রাজ আমল থেকেই চালু ছিল। রাজ্যে বাম আমলে বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই পরিষেবা ক্রমশ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত ১৯৯৫ সালে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বাম সরকার এরপর একাধিকবার চেষ্টা করেও কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা আর চালু করতে পারেনি। ২০১১ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে পুনরায় বিমান পরিষেবা চালু হয়। কিন্তু চালু হওয়ার পাঁচ-ছয়দিনের মধ্যেই সেই পরিষেবা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১২ সালে একবার কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার মহড়া শুরু হয়। শেষপর্যন্ত অবশ্য সেই পরিষেবা চালু হয়নি। ২০১৩ সালেও বিমান মহড়া হয়। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা ফের চালু হয়। মাসখানেকের মধ্যে ছয়-সাতদিন অনিয়মিত চলার পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের তা বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর নিশীথ প্রামাণিকের উদ্যোগে ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ আসনের বিমান পরিষেবা এখানে শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উড়ান প্রকল্পে তা এখনও চলছে। যদিও আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তা আর চলবে না।
প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ করে কেন বিমান সংস্থাটি তাদের বিমান পরিষেবা এখান থেকে বন্ধ করে দিচ্ছে? এর পেছনে কী কারণ রয়েছে? বিমানবন্দর সূত্রে খবর, প্রায় তিন বছর ধরে এখান থেকে যে বিমান পরিষেবা চলছে তাতে যাত্রীর ঘাটতি দেখা যায়নি। এমনকি সোমবারও বিমানবন্দর থেকে বিমানটি সব আসনে যাত্রী নিয়েই কলকাতায় গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও কেন সংস্থা এমন সিদ্ধান্ত নিল সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যখন এখানে বিমান পরিষেবা বন্ধ হওয়ার কথা, তার দুই-তিন মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ফলে এর প্রভাব যে কমবেশি কোচবিহারের নির্বাচনেও পড়বে তা পরিষ্কার।

