নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: শরীরকে সুস্থ, সতেজ রাখতে যোগব্যায়াম, খেলাধুলোর কোনও বিকল্প নেই। সুস্থ, সবল থাকতে অনেকেই খেলার মাঠ বা জিমে ঘাম ঝরিয়ে থাকেন। ঠিক একইভাবে এবার হাতিদের শারীরিক গঠন ও শরীরকে সুস্থ, সবল রাখতে তাদেরও শারীরিক কসরত করানোর কথা ভেবেছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। সেখানে থাকা পাঁচটি হস্তীশাবককে রোজ সকালবেলা হাঁটানো, দৌড় করানো হয়। এরই মধ্যে হস্তীশাবকদের জন্য এবার ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছে।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে (Jaldapara) সোমবার সকালে জলদাপাড়ার হলং সেন্ট্রাল পিলখানার তিন মাসের একটি হস্তীশাবককে ফুটবল খেলানো হয়। বল দেখেই আনন্দে আত্মহারা সেই খুদে। পিলখানার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বল নিয়ে ছুটছে সে। তবে সঙ্গী কেউ না থাকায় তার মায়ের মাহুত রফিকুল ইসলামকেই পার্টনার করে নেয়।
খুদে শাবকের ফুটবল খেলা দেখে রফিকুল বললেন, ‘ছোট পায়ে বল মারতেই তা চলে যাচ্ছে পিলখানার বাইরে। আমার পায়ে বল রাখলে আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বল নিয়ে ড্রিবলিং করছে। কখনও পা দিয়ে কখনও শুঁড় দিয়ে বল ঠেলে দৌড়ে বেড়াচ্ছে।’
জলদাপাড়ার বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ান জানান, ছোট শাবকদের নানারকম কসরত করানো হয়। বল খেলা, হাঁটা, দৌড় করালে ওদের শারীরিক কসরত হয়। এরফলে ওদের শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনই মন, মেজাজ ভালো থাকে। স্বাস্থ্যই সম্পদ, এটা সকলের জন্য প্রযোজ্য। পিলখানার কুনকি হাতি চৈতির দ্বিতীয় সন্তান এই শাবকটি।
জলদাপাড়ার প্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মার কথায়, ‘শরীর সুস্থ রাখতে খেলাধুলোর বিকল্প নেই। মানুষের ক্ষেত্রে যেমন এই ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই হস্তীশাবকের ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। এই দৌড়ঝাপের পর একদিকে ওদের শরীর যেমন ঠিক থাকবে, তেমনই মনমেজাজ ভালো থাকবে।’

