জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : মালদা (MALDA) শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফোর লেন রাজ্য সড়ক ক্রমেই যানবাহনের পার্কিং (PARKING) লটে পরিণত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সুকান্ত মোড় থেকে রথবাড়িমুখী ফোর লেনের দুটি লেন দখল করে রাখছে বেসরকারি যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস এমনকি ছোট চারচাকা গাড়িগুলোও। ফলে ক্রমেই অপ্রশস্ত হয়ে পড়ছে দুটি লেন। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে অন্য যানবাহন। সেইসঙ্গে প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে যাত্রী সাধারণেরও। অথচ বিষয়টিতে নজরে নেই মালদা জেলা ট্রাফিক প্রশাসনের। ট্রাফিক ওসি জানিয়েছেন, জানি না কেন যানবাহন ফোর লেনে রাখা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একসময় ক্রমেই বাড়ছিল মালদা শহরে যানবাহনের চাপ। একদা গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য সড়কটি ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের অন্তর্গত ছিল। মালদা শহরকে যানজটমুক্ত করতে ইংরেজবাজারের বাঁধাপুকুর মোড় থেকে জাতীয় সড়কের বাইপাস তৈরি হয়। বাইপাসটি পুরাতন মালদার নারায়ণপুরে গিয়ে মিলেছে। স্বাভাবিকভাবেই দূরপাল্লার বেশিরভাগ যানবাহন শহরের ভিতরে প্রবেশ না করে বাইপাস হয়ে বেড়িয়ে যায়। তাতে মালদা শহরের উপর যানবাহনের চাপ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়। বর্তমানে বাঁধাপুকুর থেকে প্রশস্ত রাস্তার মালদা শহরের অংশ রাজ্য সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে। যদিও রেলের রেক পয়েন্টের বড় বড় লরি, যাত্রীবাহী সরকারি এবং বেসরকারি বাস, মিনিবাস, ম্যাজিক গাড়ি সহ টোটো, অটো, প্রাইভেট চারচাকা গাড়ি, মোটরবাইকের মতো যানবাহনগুলি যাতায়াতের জন্য রাজ্য সড়কের ফোর লেন ব্যবহার করে থাকে।
মাসখানেক ধরে দেখা যাচ্ছে ফোর লেনের মাঝের দুটি লেনের দু’দিকে বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করানো থাকে। প্রাইভেট গাড়িগুলি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে শহরে নিজেদের কাজ করে আবার নিয়ে যায়। একইভাবে বেসরকারি বাসগুলি পরপর দাঁড় করানো থাকছে রাস্তার উপরেই। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফোর লেনকে যানবাহনের অলিখিত পার্কিং জোনে পরিণত করায় শহরবাসী ও গাড়িচালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শহরের রামকৃষ্ণপল্লি এলাকার বাসিন্দা দেবদূত সাহা বলেন, ‘মাসখানেক ধরেই ফোর লেনের দুটি লেনে পরপর বাস সহ অন্য যানবাহন দাঁড় করানো থাকে। বিশেষ করে সকাল ১০টা-দুপুর ১টা পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে শুধু গাড়ি আর গাড়ি দেখে যায়। ফলে রাস্তা ছোট হয়ে পড়ছে। অন্য যানবাহন চালাচলের সময় অত্যন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ গৌতম দাস নামে সর্বমঙ্গলাপল্লির এক বাসিন্দা জানান, মালদা শহরে পার্কিং লট নেই। তাই চারচাকাগুলি দাঁড় করাতে ফোর লেনে নিয়ে আসছে। এখন তো বেসরকারি বাসগুলোও দাঁড় করাতে শুরু করেছে। মালদা শহরের অবস্থা ক্রমেই আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ দেখেও দেখতে পাচ্ছে না যেন।
এপ্রসঙ্গে ট্রাফিক ওসি বলেন, ‘যানবাহন কেন রাখা হচ্ছে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। রাস্তার উপরে কোনও অবস্থাতেই যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না।’

