উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়তে পারে সাধারণ মানুষের পকেটে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় চার বছরের বিরতি ভেঙে খুব শীঘ্রই পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে আলোচনা চলছে (Fuel and LPG Price Hike)। ২০২২ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানির দর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি সেই স্বস্তিতে ছেদ ফেলতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংলগ্ন এলাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো এই বর্ধিত খরচের একটি বড় অংশ নিজেদের কাঁধে নিয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে এখন এই বোঝা গ্রাহকদের ওপর কিছুটা হস্তান্তরের চিন্তাভাবনা চলছে।


রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়লে ব্যক্তিগত যাতায়াতের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়বে, যার ফলে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বাড়তে পারে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের তরফে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। মূল্যবৃদ্ধি কতটা হলে সাধারণ মানুষের ওপর আঘাত কম আসবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের আভাস, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে সরকার যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

