গাজোল: ছাগল চড়াতে গিয়ে হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে (Malda Electrocution) এসে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক কৃষকের। রবিবার বিকেল চারটে নাগাদ গাজোল থানার রানীগঞ্জ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব বিল আহোড়া মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মৃত কৃষকের নাম ভরত মণ্ডল (৫৫)। তাঁর বাড়ি নিকটবর্তী কেনবোনা গ্রামে। বিদ্যুৎ দপ্তরের গাফিলতির অভিযোগে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিনও বিকেলে গ্রামের মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়েছিলেন ভরত বাবু। ওই মাঠের ওপর দিয়ে সেচের সাবমারসিবল পাম্পের জন্য হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সংযোগের তার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই তারগুলি অত্যন্ত বিপদজনকভাবে ঝুলে ছিল। মাঠের একটি অংশে হাইভোল্টেজ তারটি মাটি থেকে মাত্র তিন ফুট উঁচুতে অবস্থান করছিল। ভরত মন্ডল নিচু হয়ে সেই তারটি পার হওয়ার চেষ্টা করতেই ঘটে যায় বিপত্তি। বিদ্যুৎবাহী তারটি তাঁকে টেনে নেয় এবং তাঁর গলায় আটকে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারের সংস্পর্শে আসার পর ভরত বাবু নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শরীর ও গলা থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা শুকনো বাঁশ ও লাঠি দিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁকে তারের কবল থেকে মুক্ত করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গাজোল থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
মৃত কৃষকের ভাইপো বিক্রম মণ্ডলের দাবি, ঝুলে থাকা মরণফাঁদ দেখতে না পেয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতির কারণেই এই অকাল মৃত্যু। তবে বিদ্যুৎ দপ্তরের মালদহ রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে বর্ণনা করলেও কিছুটা দায় কৃষকের ওপরই চাপিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “অসতর্কতার কারণেই এই বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। সাবমারসিবল পাম্পের সংযোগের ক্ষেত্রে কৃষকরা অনেক সময় গাফিলতি দেখান। ওই এলাকাটি জনমানব শূন্য ছিল। তবুও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
বিদ্যুৎ দপ্তরের এই সাফাইয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ঝুলে থাকা সমস্ত তার সংস্কার করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

