সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা : গজলডোবা বাজারে গড়ে উঠছে আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স। কিন্তু এর জন্য এই মরশুমে দোকান সরানো নিয়ে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। যদিও বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই একে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে, শনিবার রাজগঞ্জের গজলডোবা বাজারে আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সার্বিক সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে যান রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা গজলডোবা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়। সেসময়ে মালবাজারের মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খান্ডাল সহ রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপালি দে সরকার, এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং আধিকারিকরাও ছিলেন।
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গজলডোবার ‘ভোরের আলো’ এলাকায় প্রতিদিন বহু পর্যটকের সমাগম হয়। পর্যটনকেন্দ্রের পাশেই অবস্থিত গজলডোবা বাজারে বিভিন্ন খাবার ও পণ্যের দোকান বসে। পর্যটকদের সুবিধা ও বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বাজারকেই নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে গজলডোবা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি।
বিধায়ক বলেন, ‘গজলডোবা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সৌন্দর্যায়ন করা হবে। ইতিমধ্যেই ৮টি দোকান তৈরি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও দোকান তৈরি করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন দোকানগুলিতে প্রথমত পুরোনো ২২ জন ব্যবসায়ীকে স্থানান্তর করা হবে। আর পুরোনো দোকানগুলি ভেঙে দেওয়া হবে।’
এ নিয়েই কিছুটা ক্ষোভ জমছে। উন্মিত সাহা নামে গজলডোবার এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখন সিজন। এই সময়ে দোকান সরালে সমস্যা হবে। সিজন চলে গেলে তারপর স্থানান্তরিত করা হলে ভালো হয়।’
যদিও পরিদর্শনে এসে মহকুমা শাসক দোকানদারদের উদ্দেশে বলেন, ‘এরমধ্যে দোকানদারদের নোটিশ করা হবে। নোটিশ পাওয়া দোকানদারদের ২০ দিনের মধ্যে নবনির্মিত দোকানে স্থানান্তরিত হতে হবে।’ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের সুবিধা বাড়বে, তেমনই গজলডোবার পর্যটন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রশাসনের।
এদিকে ফাস্ট ফুডের দোকান মালিক ইউ বালা বলেন, ‘পুরোনো বাজার সংলগ্ন এলাকায় দোকান হচ্ছে। এর ফলে সুবিধাই হবে।’
সাইকেল স্ট্যান্ডের মালিক আনন্দ ঘোষ বলেন, ‘এখানে মোট ৪৭ জন দোকানদার রয়েছেন। প্রত্যেকেই ঘর পাবেন। এখন ২২ জন পাবেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে হবে। সবজি ও মাছ ব্যবসায়ীরা পরে পাবেন বলে ঠিক হয়েছে। সরকার বিনা পয়সায় দোকান ঘর করে দিচ্ছে। এর সঙ্গে থাকবে পার্ক ও অন্য সুযোগসুবিধা। আমরা এতে খুব খুশি।’

