নয়াদিল্লি: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের রোভিলে ‘অস্ট্রেলিয়ান ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টার’-এর সামনে থেকে মহাত্মা গান্ধির একটি ৪২৬ কেজি ওজনের বিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি (Gandhi Statue Theft Melbourne) চুরি হয়েছে। ভারতের ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস’ (আইসিসিআর)-এর পক্ষ থেকে উপহার হিসাবে দেওয়া এই মূর্তিটি স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সোমবার রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটে একটি সাদা ভ্যানে করে আসা তিন মুখোশধারী দুষ্কৃতী একটি অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডারের সাহায্যে ভারী মূর্তিটি গোড়ালি থেকে কেটে নিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনাস্থলে এখন কেবল মূর্তির পায়ের অংশটুকু অবশিষ্ট রয়েছে। মূর্তি চুরির পিছনে খালিস্তানিরা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
যদিও অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশের অনুমান এই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভারতবিরোধী মনোভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কারণ, খালিস্তানপন্থীরা এর আগেও একাধিকবার অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন এবং ধর্মীয় স্থানগুলিকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে। ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এই মূর্তির উন্মোচন করেছিলেন। উদ্বোধনের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একবার এটি ভাঙচুর করা হয়েছিল। বর্তমানে ভিক্টোরিয়া পুলিশের ‘নক্স ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। চোরাই মূর্তিটি যেন ধাতব বর্জ্য হিসাবে কেউ কিনতে না পারে, সেই জন্য স্থানীয় ‘স্ক্র্যাপ মেটাল’ ডিলারদের সতর্ক করা হয়েছে।
ভারত সরকার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি অবিলম্বে মূর্তিটি উদ্ধার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বিরোধী এবং চরমপন্থী কর্মকাণ্ড বাড়বাড়ন্তের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসেও একটি মন্দিরে ‘উসকানিমূলক’ গ্রাফিতি এঁকে হামলা চালানো হয়েছিল।

