রতুয়া ও মানিকচক: স্বস্তির খবর, ইতিমধ্যে জল কমতে শুরু করেছে গঙ্গা এবং ফুলহর নদীতে। লাল সতর্কতা সরিয়ে জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। তাতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফায় বিপর্যয়! নতুন করে হচ্ছে গঙ্গাভাঙন৷ এদিন ভোর থেকে প্রায় দু’ঘণ্টার ভাঙনে রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মুলিরামটোলা এবং জিতুটোলায় তলিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। নদীগর্ভে চলে গিয়েছে কৃষিজমিও।
রবিবার ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুরের সনাতনটোলা এবং উত্তর চণ্ডীপুরের রঘুনাথটোলা গ্রামে বন্যার জলে ডুবে নিখোঁজ হন বিবেক মণ্ডল এবং মাহাতাব মণ্ডল। দুজনকে খুঁজতে তল্লাশি অভিযানে নামে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্স। ইতিমধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে ভূতনি থানার পুলিশ। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
চূড়ান্ত বিপদসীমা ২৪.৬৯ মিটার থেকে এদিন ৩৩ সেন্টিমিটার উঁচুতে রয়েছে গঙ্গা। তবে, এদিন ঘণ্টায় গড়ে প্রায় দুই সেন্টিমিটার করে জল কমছে নদীর৷ এতেই পাড়ের নরম মাটি ধসে পড়ছে নদীতে৷ জিতুটোলার দেবাশিসকুমার মণ্ডল বললেন, ‘আমার সব গঙ্গায় চলে গিয়েছে। এখন আমি পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, জানি না৷’ দু’ঘণ্টার মধ্যে জিতুটোলার প্রায় ১৫ বিঘা জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। যে হারে ভাঙছে, তাতে বিকেল পাঁচটার মধ্যে পুরো গ্রামটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে তাঁর আশঙ্কা। বললেন, ‘আপাতত আমরা সবাই সরকারি ত্রিপলের আশায় বসে রয়েছি। সেটা পেলে অন্তত বর্ষার মধ্যে মাথার উপর একটা আচ্ছাদন দিতে পারব।’
শুধু জিতুটোলা নয়, মুলিরামটোলা আর কান্তটোলা গ্রামও এবার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে। প্রশাসন সবই জানে, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করেনি। বিধায়কও একই পথে হেঁটেছেন৷ সাংসদ এখানে এসে মানুষের তাড়া খেয়েছেন। দেবাশিসের কটাক্ষ, ‘শুনেছি, কেন্দ্র নাকি ভাঙন রোধের জন্য প্রচুর টাকা বরাদ্দ করেছে। সবই হবে, কিন্তু আমরা শেষ হয়ে যাওয়ার পর৷’
মঙ্গলবার ভাঙনবিধ্বস্ত মুলিরামটোলা, শ্রীকান্তটোলা ও জিতুটোলায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যাশা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং নিখিলবঙ্গ রাজ্য সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে প্রায় এক হাজার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় শুকনো খাবার এবং শিশুদের জন্য দুধ।
উত্তর চণ্ডীপুরের প্রায় সমস্ত এলাকা থেকে জল নামতে শুরু করেছে। তবে পুলিনটোলা, গিরিটোলা সহ বেশ কয়েকটি নীচু এলাকা এখনও জলমগ্ন। দক্ষিণ চণ্ডীপুরেও ছবিটা একই। হেঁটে যাতায়াত করা যাচ্ছে।
বর্তমানে শুধু ভূতনি ব্রিজ থেকে কাটাবাঁধ পর্যন্ত নৌকা চলাচল করছে। উত্তর চণ্ডীপুরের উজির মিয়াঁ বলেন, ‘দক্ষিণ চণ্ডীপুরের পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কে ভুগছিলাম। কিন্তু বন্যার জল দ্রুত সমস্ত এলাকা থেকে প্রায় নেমে গিয়েছে।’
তবে কেশরপুর, বসন্তটোলা, কালুটোনটোলা সহ বিভিন্ন অসংরক্ষিত গ্রামগুলি এখনও জলমগ্ন। এখনও ভূতনির রিং বাঁধের ওপর বসবাস করছে প্রায় পাঁচশোরও বেশি পরিবার। ব্লক প্রশাসনের তরফে শুকনো খাবার এবং খিচুড়ি বিলি করা হচ্ছে। মানিকচকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘যেভাবে পরিস্থিতি হঠাৎ করে খারাপ হয়েছিল, সেভাবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে খোলা রয়েছে ত্রাণশিবির। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা চলবে।’

