জয়ন্ত সরকার, গঙ্গারামপুর: মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিপদের মুখে পড়েছে গঙ্গারামপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নির্মীয়মাণ মন্দিরের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির জেরে স্কুল ভবনের একাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনও মুহূর্তে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে বুধবার গঙ্গারামপুর (Gangarampur) পুরসভা ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানায় তারা। এদিনই বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে আসেন গঙ্গারামপুর সদর চক্রের এসআই এনামুল শেখ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘মন্দির মন্দিরের জায়গায় হোক, তাতে স্কুলের কোনও বক্তব্য নেই। কিন্তু স্কুলের ক্ষতি করে কেন হবে? মন্দির কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তাঁরা সাবধানতা অবলম্বন করেননি। আমি ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরা খুব আতঙ্কে আছি। স্কুল ভবনটা যেন ধসে না পড়ে।’


ঘটনাটি গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন গঙ্গারামপুর জিএসএফপি নম্বর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৮২ জন পড়ুয়া এবং ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্কুলের দক্ষিণ প্রান্তের ভবনের মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট দূরত্বে চলন্তিকা মাতৃ মন্দির কর্তৃপক্ষ মন্দির নির্মাণের জন্য মাটি খননের কাজ শুরু করে। এরপর থেকেই স্কুল ভবনের মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। বিগত ২ দিনের বৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এই নিয়ে প্রথমে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগের প্রতিলিপি পাঠানো হয় গঙ্গারামপুর সদর চক্রের এসআই-এর কাছেও। এরপর গত সোমবার ও মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে নির্মীয়মাণ অংশে জল জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে অভিযোগ। জল ঢুকে ভবনের নীচের মাটি সরে যেতে শুরু করে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কোনও উপায় না দেখে বুধবার ফের লিখিত অভিযোগ দায়ের করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
যদিও গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পাপড়ি কর্মকার সাহা বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ আগে বিষয়টি জানায়নি। আজ জানিয়েছে। আমরা পুরসভায় আবেদন করতে বলেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
অন্যদিকে, চলন্তিকা মাতৃ মন্দির কমিটির সম্পাদক প্রশান্ত সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘স্কুলের মধ্যে আমাদের মন্দির কমিটির প্রায় দেড় শতক জায়গা রয়েছে। তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরা প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করে একটা মন্দির নির্মাণ করছি। তাতে সকলের সহযোগিতা চাইছি। স্কুলের ক্ষতি করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই। বৃষ্টির কারণে ড্রেনের জল জমে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুরসভার ড্রেন বন্ধ থাকায় সমস্যা বেড়েছে। বালির বস্তা ফেলে দু’-একদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
ওই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।

