রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: এক সপ্তাহ ধরে জলের রিভার্স অসমোসিস (আরও) মেশিন খারাপ। ফলে ডায়ালিসিস বন্ধ গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে (Gangarampur Super speciality Hospital)। চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে গঙ্গারামপুর মহকুমা সহ সংলগ্ন এলাকার রোগীদের। এমন পরিস্থিতিতে কেউ গুনছেন নার্সিংহোমের জন্য মোটা টাকা, কেউ কেউ আবার ছুটছেন ৪০ কিলোমিটার দূরের বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগীদের মধ্যে। কেন এক সপ্তাহ ধরে জল পরিস্রুত করার যন্ত্রটি খারাপ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রোগীরা। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান গৌতম দাস বলছেন, ‘মূলত আরও মেশিনটি খারাপ থাকায় ২৮ অক্টোবর থেকে ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু হবে।’
পাঁচটি ডায়ালিসিস যন্ত্র থাকলেও তা এক সপ্তাহ ধরে কোনও কাজে আসছে না জল পরিস্রুত করার যন্ত্রটি খারাপ থাকায়। সাধারণ একটা আরও মেশিন কি ঠিক করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বর্তমান সময়ে বিশেষ কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডায়ালিসিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাধ্য হয়ে দূরের বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল অথবা নার্সিংহোমে ছুটতে হচ্ছে রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের। এমনই একজন অভিষেক রায়। তিনি বললেন, ‘কিডনির সমস্যার জন্য সপ্তাহে দু’দিন ডায়ালিসিস করতে হয়। গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিস মেশিন বন্ধ থাকবার ফলে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সেখানে রাত ১০টায় ডায়ালিসিস হওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারিনি। বালুরঘাটে রাত কাটিয়ে বুধবার বাড়ি ফিরেছি। আমার মতো আরও অনেকেরই খুব কষ্ট হচ্ছে। গঙ্গারামপুরে দ্রুত ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু হওয়া উচিত।’ কিডনির রোগে আক্রান্ত আবদুল মিয়াঁ আবার ডায়ালিসিস করাচ্ছেন নার্সিংহোমে। তাঁর বক্তব্য, ‘গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে মোটা টাকা গুনতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের মতো কিডনি সংক্রান্ত রোগীদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ হরিরামপুরের সুদেব সরকার বললেন, ‘দাদার কিডনির সমস্যা রয়েছে। সপ্তাহে তিনদিন করে ডায়ালিসিস করাতে হয়। গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাই। কিন্তু মাঝেমধ্যেই এখানকার মেশিন খারাপ থাকে। বাইরে মোটা টাকা খরচ করে ডায়ালিসিস করতে হচ্ছে। টাকা খরচ করেও স্বস্তি নেই। ডায়ালিসিস করতে গিয়ে রোগীর কাঁপুনি সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে গঙ্গারামপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পিপিপি মডেলে ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু হয়। এরপর থেকে প্রায় সময়ই যন্ত্র খারাপের জন্য বন্ধ হয়ে যায় পরিষেবা। গঙ্গারামপুর তো বটেই, সমস্যায় পড়েন কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, গাজোল, নালাগোলা, কুমারগঞ্জ, তপন সহ বিভিন্ন এলাকার রোগীরা।

