নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের কাছে বিপুল ভোটে হারতেই, মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করলেন গৌতম দেব (Gautam Deb)। মঙ্গলবার ঘনিষ্ঠ মহলে এমন ইচ্ছার কথা জানান গৌতম। যদিও তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে খবর।
শংকরের কাছে রেকর্ড ৭৩ হাজার ১৯২ ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছেন গৌতম। হারের পর সোমবার কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি। তবে, মঙ্গলবার তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায়নি। এদিন দিনভর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন দলের একাধিক নেতা-নেত্রী। তাঁদের সঙ্গে ভোট পরবর্তী একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সারেন গৌতম। সেই আলোচনার মধ্যেই একসময় গৌতম বলে ওঠেন, ‘আমি আর মেয়র থাকতে চাইছি না।’ গৌতমের কথা শুনে হকচকিয়ে যান উপস্থিত সকলে। যদিও পরে তঁারা হঠাৎ কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেন।


মেয়র পদ ছাড়তে চান কেন? গৌতমের বক্তব্য, ‘বিজেপি কী করবে তা দেখতে হবে। ভেঙে দিয়ে ফ্রেশ ম্যান্ডেডে যাবে কি না, তাও দেখতে হবে। তবে আমি আমার কথা দলকে জানাব। দল যা বলবে তাই হবে।’ এদিকে, এনিয়ে গৌতমকে কটাক্ষ করেছেন পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন। তিনি বলেন, ‘পুরনিগম ভেঙে পড়েছে। শহরের হাল বেহাল। ফলে ব্যর্থতা লুেকাতেই এসব কথা বলছেন। আমরা কাউকে ভয় দেখাতে চাই না। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।’
অন্যদিকে, গৌতমের এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের অন্দরেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশ্যে এনিয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাইলেন না। তবে দলের ‘বিক্ষুব্ধ’ কাউন্সিলার দিলীপ বর্মন বলেন, ‘এই পরাজয়ের পর ওঁনার পদত্যাগ করে দেওয়া উচিত।’
এদিন সকাল থেকে পুরনিগমের চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী, মেয়র পারিষদ রামভজন মাহাতো, কাউন্সিলার অভয়া বসু হাজির হয়েছিলেন গৌতমের বাড়িতে। এছাড়াও একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তবে তৃণমূলের শিক্ষক নেতা সুপ্রকাশ রায়কে একবারও দেখা যায়নি। যা নিয়ে দলেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
এদিকে, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা প্রত্যেক নেতার কাছ থেকে শহরের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন গৌতম। কোন কোন এলাকায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে কিংবা কাকে কাকে ধমকানো হচ্ছে সেসবের খোঁজও নেন। গৌতম জানিয়েছেন, এই সময় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
গৌতম বলেন, ‘১৯৭৭ এবং ২০১১ দেখেছি, ’২৬-ও দেখলাম। ১৫ বছর একটা সিস্টেমের মধ্যে ছিলাম। বেরিয়ে আসতে একটু সময় লাগবে। হাতে হয়তো ক্ষমতা থাকবে না। সামনে কঠিন সময় আসছে। আমি মেকানাইজ সিস্টেমের কাছে হেরেছি, ফলে কোনও দুঃখ নেই।’
তবে শুধু গৌতম নয়, এদিন অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলার, মেয়র পারিষদের পুরনিগমে আশপাশেও দেখা যায়নি। পুরনিগমে না গেলেও ফোনে পুর কমিশনারের সঙ্গে জরুরি কাজকর্ম নিয়েও আলোচনা সারেন গৌতম।

