রাকেশ শা,ঘোকসাডাঙ্গা: ‘তৃণমূলে যোগদান করেছিলাম। কিন্তু সেখানে আমার ভালো লাগছিল না।’ সোমবার তৃণমূল ছেড়ে তাঁর পুরনো দল বিজেপিতে ফিরে এমন মন্তব্যটি করেছেন ঘোকসাডাঙ্গা (Ghoksadanga) গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা দেবনাথ সরকার। তবে ঘটনাটি ঘিরে কটাক্ষের সুর শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের গলাতেও।
মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের ঘোকসাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ১৮ টি। গত পঞ্চায়েত ভোটে ১০ টি আসন জিতে বোর্ড গঠন করে বিজেপি (BJP)। সীমা দেবনাথ সরকারকে প্রধান করে বোর্ড গঠন করে পদ্ম শিবির।


এদিকে লোকসভা ভোটে কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের (TMC) জয়ের পর থেকেই তারা বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত দখলের মরিয়া চেষ্টা চালায়। আর সেই আবহেই ঘোকসাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির টিকিটে জেতা প্রধান সহ আরেক পঞ্চায়েত সদস্য কোচবিহারে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে জেলা সভাপতি অভিজিত দে ভৌমিকের হাত ধরে পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুলে যোগ দেয়। সেইসময় সীমা দেবনাথ দাবি করেন, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ সবই তৃণমূলের দখলে, তাই বিভিন্ন প্রকল্প সহ সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই তার এই দল পরিবর্তন।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে সোমবার ঘোকসাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের চৈতন্যের হাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক সহ বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ঘোকসাডাঙ্গার প্রধান সীমা দেবনাথ সরকার ও পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ সরকার বিজেপির দলীয় ঝান্ডা নিয়ে ফের বিজেপিতে যোগদান করেন। এই প্রসঙ্গে সীমা দেবনাথ বলেন, ‘আমি গ্রাম পঞ্চায়েতে যেতে পারছিলাম না, খুব চাপে ছিলাম, তাই তৃণমূলে যোগদান করেছিলাম। কিন্তু সেখানে আমার ভালো লাগছিল না। তাই ফের আগের ঘরে ফিরে এলাম।’
বিজেপির জেলা সাধারন সম্পাদক মনোজ ঘোষের কথায়, ‘এটা তো শুধু ট্রেলার, এখনও ফিল্ম বাকি। ভয় দেখিয়ে তাদের জেতা প্রধানদের দলে নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত গুলোর দখল নিয়েছিল তৃণমূল। তারা আবার নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তৃণমূলের অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমরা সবাইকে দলে নেব না, তবে খুব শীঘ্রই আরও চমক আসছে।’
এব্যাপারে তৃণমূলের মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা জেলা সাধারণ সম্পাদক সাবলু বর্মনের বলেন, ‘লোভে পরে মোটা টাকার কাছে বিক্রি হয়ে ফাঁদে পা দিয়েছে।মানুষই এর যোগ্য জবাব দেবে।’

