উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক:পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ভারতের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক স্বস্তির খবর নিয়ে এল ইরান। পারস্য উপসাগরে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে ভারতীয় জাহাজের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের পথ বা ‘সেফ প্যাসেজ’ (Safe Passage)-এর বার্তা দিল তেহরান (Strait of Hormuz Safe Passage)। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি জানিয়েছেন, ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের অটুট বন্ধুত্বের কারণেই এই বিশেষ সুবিধা পেতে চলেছে দিল্লি। তাঁর মতে, ভারত কেবল একটি বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং ইরানের একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ।
কৌশলগত গুরুত্ব ও ভারতের স্বস্তি
বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয় (Crude Oil Imports) এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে যদি এই সরু সামুদ্রিক (Strategic Waterway) পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগ এই রুট দিয়েই আমদানি করে। রাষ্ট্রদূত ফাতালি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভারত আমাদের বন্ধু। খুব দ্রুত আপনারা দেখতে পাবেন যে ভারত এই রুট দিয়ে অবাধে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছে।”
নতুন কূটনৈতিক মাত্রা
এই বার্তার মাধ্যমে ইরান কেবল ভারতকে আশ্বস্ত করেনি, বরং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেও তুলে ধরেছে। ফাতালি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন কঠিন সময়ে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারত নানাভাবে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই পদক্ষেপটি সেই কৃতজ্ঞতা এবং অভিন্ন স্বার্থের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, ভারত ও ইরানের ঐতিহ্যগত বন্ধন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্বাস অভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার মাঝে ইরানের এই ঘোষণা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে, রাশিয়ার পর ইরানের সঙ্গেও ভারত তার ‘ব্যালেন্সিং ডিপ্লোম্যাসি’ বা ভারসাম্যমূলক কূটনীতি বজায় রাখতে সফল।

