উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিচারের বাণী আজও যে নীরবে নিভৃতে কাঁদে, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল আখলাখ হত্যা মামলায়।
২০১৫ সালে গ্রেটার নয়ডার বিসাড়া গ্রামে গোমাংস রাখার অভিযোগে একদল উন্মত্ত জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন প্রৌঢ় মহম্মদ আখলাখ। আহত হন তাঁর ছেলে দানিশও। লাউডস্পিকারে গোমাংসের গুজব ছড়িয়ে পড়তেই আখলাখকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি চিহ্নিত করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এই ঘটনা।
বর্তমানে মামলাটি সুরজপুর জেলা আদালতে বিচারাধীন। জেলা আদালতের অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী ভাগ সিং ভাটি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠিয়েছে। আবেদনপত্র আদালতে জমা পড়েছে এবং ১২ ডিসেম্বর শুনানি হবে। আখলাখ পরিবারের আইনজীবী ইউসুফ সইফি বলেছেন, তিনি এখনও কোনও সরকারি নথি পাননি। নথি হাতে এলেই মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।
ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। আখলাখের খুনিদের বেকসুর খালাস করার এহেন ‘অপচেষ্টা’র তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস নেতা শাহনওয়াজ আলম বলেন, ‘এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা, কারণ সরকার ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টিকারী এবং গণপিটুনিতে জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে উদ্যোগী হয়েছে। এই ঘটনাটি কোনও সাধারণ ঘটনা ছিল না। এখানে একটি দক্ষিণপন্থী জনতা এক মুসলিমকে হত্যা করেছিল। এর ফলে যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণপিটুনিতে বিশ্বাসী, সেই প্রান্তিক গোষ্ঠীর একটি ছোট অংশ আরও সাহস পেয়ে যাবে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার করেন, সেখানে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশিতই ছিল। আমরা এই ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা জানাই।’
Noida | অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চায় সরকার! আখলাখ মামলায় অভিযুক্তদের মুক্তির তোড়জোড়
ছবিঃ সংগৃহীত
শেষ আপডেট:
Categories
জাতীয়
