উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) যুবক জুয়েল রানা। গত ২৫ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে তথাকথিত ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। সেই ভয়াবহ ঘটনায় জুয়েলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল তাঁর পরিবারে। মঙ্গলবার রাতে মানবিক মুখ দেখিয়ে নিহতের মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিল রাজ্য সরকার।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ থেকে জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক ওড়িশার সম্বলপুরে দিনমজুরের কাজে গিয়েছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের রাতে আনুমানিক ৮ টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাঁর দুই সহকর্মী আরিক ও পলাশ। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পাঁচজনের একটি দুষ্কৃতী দল সেখানে চড়াও হয়। মুর্শিদাবাদের এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তারা অশান্তি শুরু করে।
শ্রমিকরা তাঁদের কাছে থাকা বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখালেও দুষ্কৃতীরা কর্ণপাত করেনি। আরিক ও পলাশ কোনওমতে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও জুয়েল পালাতে পারেননি। তাঁকে বেধড়ক মারধর করে উন্মত্ত দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম হয়ে জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আততায়ীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরই সরব হয় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। মন্ত্রী শশী পাঁজা সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার এই পরিবারের পাশে আছে এবং সবরকম সাহায্য করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলো। মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মায়ের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।
ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড় প্রশ্ন তুলে দিল এই ঘটনা। তবে রাজ্য সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে শোকাতুর পরিবারটি। সাংসদ খলিলুর রহমান জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আজ তা পূরণ করা হলো।

