উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তামিলনাডুর মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে (Tamil Nadu Election 2026)। একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠন নিয়ে বড়সড় জটে জড়িয়েছেন তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (TVK) সুপ্রিমো থালাপতি বিজয় (Thalapathy Vijay)। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর.ভি. আর্লেকারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সূত্রের খবর, বিজয় বিধানসভায় ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের প্রস্তাব দিলেও রাজ্যপাল তা খারিজ করে দিয়েছেন। রাজ্যপালের স্পষ্ট নির্দেশ, শপথ নেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণ দিতে হবে।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের দল ১০৮টি আসন জিতেছে। কিন্তু বিজয় নিজে দুটি কেন্দ্রে (পেরাম্বুর ও ত্রিচি পূর্ব) জয়ী হওয়ায় একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হচ্ছে, ফলে দলীয় বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭। কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন মেলায় সেই সংখ্যা ১১২-তে পৌঁছালেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে এখনও ৬ জন দূরে রয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে এআইএডিএমকে-র (AIADMK) সাধারণ সম্পাদক ই. পালানিস্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে টিভিকে।


এদিকে সুযোগ বুঝে চাপ বাড়িয়েছে এআইএডিএমকে। সমর্থনের বিনিময়ে ‘ডিল’ পাকা করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বিজয়কে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তারা। পাশাপাশি, বিধায়ক কেনাবেচা আটকাতে অন্তত ২৫ জন বিধায়ককে চেন্নাই থেকে সরিয়ে পুদুচেরির বিলাসবহুল রিসর্টে পাঠিয়েছেন পালানিস্বামী। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজয়ের দল যাতে কোনোভাবেই তাদের বিধায়ক ভাঙাতে না পারে, তার জন্যই এই ‘রিসর্ট পলিটিক্স’-এর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
বিজয় এখন উভয় সংকটে। এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাঁধলে আবার হাত ছাড়তে পারে কংগ্রেস। ফলে জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে আটকে গিয়েছেন ‘লিও’ তারকা। রাজ্যপাল অনড় থাকায় এবং বিরোধী শিবিরের রণকৌশলে বিজয়ের শপথ গ্রহণ এখন বিশ বাঁও জলে।

