হলদিবাড়ি: দলবেঁধে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে চলছিল বন্যপ্রাণী শিকার। বিভিন্ন ধরনের পাখি থেকে গোসাপ, বেজি কিছুই বাদ যাচ্ছিল না। নির্বিচারে চলছিল হত্যা! ভিন রাজ্য থেকে আগত দুই শিশু সহ আট জনের শিকারি দল গ্রামে গ্রামে ঝোপঝাড়ে ঘুরে এভাবেই নির্বিচারে বন্যপ্রাণী, পাখি হত্যা করছিলেন। এমনই অভিযোগে রবিবার গভীর রাতে হলদিবাড়ি শহরের বুকে তাদের ডেরায় হানা দিয়ে সাতটি মৃত বেজি সহ বন্যপ্রাণের দেহাংশ উদ্ধার করে বনদপ্তর। মিলেছে কয়েকটি সাইকেল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মূলত মৌচাক ভেঙ্গে মধু সংগ্রহ করার জন্য বিহার থেকে যাযাবরদের একটি দলটি হলদিবাড়ি শহরে আসে। চার দিন ধরে তারা ৩নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পাইকারি টমেটো হাটি সংলগ্ন নির্মীয়মান সেডে আশ্রয় নেয়। সেখানে তারা পাঁচটা বেজির বাচ্চাকে মেরে আগুনে পুড়িয়েছিল। এমন খবর পেয়ে সেখানে হানা দেন স্পোরের এক্সিকিউটিভ সদস্য সুমন দাস। সহ বন কর্মীরা।
বিট অফিসার মানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘টের পেয়ে সকলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বছর ৫০ এর ডোমরা মাহাতোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে সাতটি মৃত বেজি সহ বেজিদের লেজ। এরমধ্যে পাঁচটি আধ পোড়া ছিল। বাকি দুটি এমনি মৃত ছিল।’ স্পোরের এক্সিকিউটিভ সদস্য সুমন দাসের দাবি, ‘বেজি একটি লুপ্তপ্রায় প্রজাতি। বেজিকে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’
ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য কৃষ্ণেন্দু রায়ের দাবি, ‘বেজির লোম দিয়ে রঙ তুলি তৈরি করা হয়। এছাড়া রূপচর্চায় যেসব ব্রাশ বা তুলি ব্যবহার করা হয়, সেখানেও বেজির লোমের কদর সবথেকে বেশি। আর অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বন উজাড় এবং কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে এদের বাসস্থান ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই আবার এদের হত্যা করে। তাই বেজিকে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

