অরুণ ঝা ও মনজুর আলম, চোপড়া: রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূল কার্যত সাফ। এইরকম সময়েও ৬৯ হাজারের বেশি লিড নিয়ে চতুর্থবারের জন্য জয়ী হয়েছেন হামিদুল রহমান। চোপড়ায় (Chopra) তাঁর দোর্দণ্ডপ্রতাপের কথা কারও অজানা নয়। অন্যান্যবার নির্বাচনের পর হামিদুলের বিরোধী দলের ওপর সন্ত্রাস করার অভিযোগও নেহাত কম নয়। কিন্তু এবার যেন সবই উলটপুরাণ। চোপড়ায় হামিদুল জেতার পরও তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান উঠেছে। মানুষ হামিদুলের ভয়মুক্ত চোপড়ার দাবিতে স্লোগান তুলেছেন।
ভোটগণনার পরেই তৃণমূলের বহু পার্টি অফিসে বিজেপি ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের কিছু পার্টি অফিস বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দল দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভয়ের চোটে বেশকিছু তৃণমূল নেতা বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে।


নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে লক্ষ্মীপুর এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘হামিদুল জিতবেন আর চোপড়ায় বিরোধীরা মাথা তুলে দাঁড়াবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।’
হামিদুল বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বেশকিছু কার্যালয় দখল করে নেওয়া হয়েছে। দলের অনেকের চা বাগানও দখল করা হচ্ছে। দলের অনেক নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। অনেকেই বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসন ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না। সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’
উত্তরে চোপড়ার বিজেপি প্রার্থী শংকর অধিকারী বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য এবং দলের অন্য সদস্যরা নিজেরাই আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। কাউকে জোর করা হচ্ছে না।’
মঙ্গলবার বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কিছু ব্যক্তি চোপড়া, চুটিয়াখোর, মাঝিয়ালি ও সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ গিয়ে চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তালা খুলে দিলেও অন্যান্য জায়গায় দিনভর কার্যালয় বন্ধই ছিল। চুটিয়াখোর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় তৃণমূলের অঞ্চল কার্যালয় কংগ্রেস ও বিজেপি যৌথভাবে দখল নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কণিকা ভৌমিকের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে কণিকার স্বামী তৃণমূল নেতা গোপাল ভৌমিক বলেন, ‘বাড়ির গেটে বিজেপির পতাকা লাগানো হয়েছে। আমার বাড়ির কাচ এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।’ কাঁচাকালী এলাকায় তৃণমূল নেতা একরামুল হকের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
এইসব ঘটনার পিছনে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস এবং সিপিএমের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের উত্তরে এই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী জাকির আবেদিন বলেন, ‘কংগ্রেসের যে অফিস হামিদুল দখল করেছিলেন, আমরা সেই পার্টি অফিসের দখল নিয়েছি। বাকি অভিযোগ ভিত্তিহীন।’ একই সুরে সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনওয়ারুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দুটি দলীয় কার্যালয় এদিন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুলেছে।’
এই বিষয়ে চোপড়ার বিডিও সৌরভ মাজি বলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়গুলির ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।’

