সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: অধ্যক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরেও শোকজের বাইরে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) (TMCP) নেতার বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে কসবা কাণ্ড। এমন পরিস্থিতিতে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজের (Harishchandrapur College) পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে একই প্রশ্ন তুলে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়নের দাবি তুলেছেন টিএমসিপির কলেজ ইউনিটের সহ সভাপতি।
কসবা কাণ্ড বা আইন কলেজের এক ছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনায় এখন তোলপাড় রাজ্য। রাজ্যের কলেজগুলি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজে আলোচনায় তৃণমূলের এক ছাত্র নেতার অধ্যক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকিও। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সিমেস্টারের পরীক্ষা চলাকালীন নকল করায় চাঁচল কলেজের এক পড়ুয়ার খাতা ১০ মিনিটের জন্য আটকে রেখেছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজের এক অধ্যাপক। যার জেরে পরবর্তীতে সদলবলে কলেজ অধ্যক্ষ সুমিত নন্দীর ঘরে ঢুকে তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিমান ঝা’র বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত অধ্যক্ষ, অধ্যাপক এবং কর্মীরা। ঘটনার পরই তদন্তের নির্দেশ দেন মালদার জেলা শাসক। পাশাপাশি, কলেজে আসে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল। কিন্তু শোকজ ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অনেকের বক্তব্য। এরই মধ্যে ঘটে গিয়েছে কসবা কাণ্ড।


ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, কলেজে নিরাপত্তারক্ষী নেই। বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে প্রত্যেকদিনই। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও তাঁরা আতঙ্কিত। পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে শাসকদলের ছাত্র ইউনিটের সহ সভাপতি পুতুল সাহানি বলেন, ‘কলেজে নিরাপত্তারক্ষী নেই। ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাজনিত সংকটে ভুগছেন। কলেজে ক্লাস করতে ভয় লাগে। কলেজে বহিরাগতরাও প্রবেশ করছে। কসবায় যে কাণ্ড হয়েছে, তার জন্য অনেক ছাত্রী কলেজ আসতেই ভয় পাচ্ছে।’
মঙ্গলবার কলেজের নতুন একটি ভবনের উদ্বোধন করার কথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর। যার জন্য সোমবার কলেজে এসেছিলেন পরিচালন সমিতির সভাপতি ও মন্ত্রী তজমুল হোসেন। তাঁর কাছেও পড়ুয়ারা নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রশাসনকেও কলেজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করতে বলেছি। কলেজে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।’ নিরাপত্তার দিকগুলি নিয়ে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রীর কথা হয়েছে বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ। তবে এলাকার সাংসদ খগেন মুর্মু মনে করেন, রাজ্যজুড়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী তাণ্ডব করছে।

