হরিশ্চন্দ্রপুর: গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু তার আগেই ভিন রাজ্যে বিপাকে পড়লেন মালদহের ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant workers detained)। পরিবার ও তৃণমূলের অভিযোগ, ওডিশার বেলাগুঠা এলাকায় কাজ করতে যাওয়া হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাট-সহ বিভিন্ন এলাকার ১৭ জন শ্রমিককে মঙ্গলবার রাতে আটক করেছে সে রাজ্যের পুলিশ। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার অপরাধেই তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: শ্রমিকদের পরিবারের দাবি, ধৃতরা ওডিশায় কাপড়-সহ বিভিন্ন সামগ্রী ফেরি করে বিক্রি করতেন। ২৩ এপ্রিল ভোট দেওয়ার জন্য আজ তাঁদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে পুলিশ এসে তাঁদের নথিপত্র দেখতে চায় এবং পরে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও স্রেফ বাঙালি হওয়ার কারণে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে।


রাজনৈতিক সংঘাত ও বিক্ষোভ: এই খবর চাউর হতেই বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুরের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়।
- তৃণমূলের তোপ: তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে ষড়যন্ত্র করে শ্রমিকদের ভোটদানে বাধা দিচ্ছে। দ্রুত তাঁদের মুক্তি না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে শাসক দল।
- বিজেপি নেতার ঘিরে বিক্ষোভ: এদিন এলাকায় এক জনসভায় যোগ দিতে আসছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই সময় শ্রমিকদের আটক করার প্রতিবাদে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও পরিজনরা।
- বিজেপির পাল্টা যুক্তি: এই প্রসঙ্গে উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু সাফ জানান, “যাঁরা বিদেশি বা বাংলাদেশি, ভারতে তাঁদের কোনও স্থান নেই।” যদিও ধৃতরা যে এদেশেরই নাগরিক, তার সপক্ষে সরব হয়েছে স্থানীয়রা।
পরিযায়ী শ্রমিকদের এই আটক হওয়ার ঘটনা এখন হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার নির্বাচনী বৈতরণীতে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের দ্রুত ফেরানোর দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে তাঁদের পরিবার।

