উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আজকালকার ব্যস্ত জীবনে আমাদের নিত্যসঙ্গী হল হেডফোন (Headphone Safety)। রাস্তাঘাটে যাতায়াত হোক কি অফিসের কাজ, কিংবা নিছক অবসরে গান শোনা— কানে হেডফোন গোঁজা এখনকার প্রজন্মের অভ্যাস। শুধু গান নয়, সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে পডকাস্ট শোনা, সবটাই চলছে কানে যন্ত্র গুঁজে। কিন্তু এই অভ্যাস কি আপনার শ্রবণশক্তিকে অকালে স্তব্ধ করে দিচ্ছে না তো? চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে স্থায়ী বধিরতা। শ্রবণশক্তি ঠিক রাখতে বিশেষজ্ঞরা ৩টি বিশেষ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন:
সঠিক ব্র্যান্ডের ব্যবহার


অনেকেই খরচ বাঁচাতে বাজারচলতি সস্তা ইয়ারফোন কেনেন। এটি কানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি মোবাইল কোম্পানি তাদের ফোনের তরঙ্গ ও কম্পনের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট ইয়ারফোন তৈরি করে। নিম্নমানের ইয়ারফোনে তরঙ্গের কোনও পরিমিতি থাকে না, যা সরাসরি কানের পর্দার ক্ষতি করে। তাই ফোনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আসল ইয়ারফোনই ব্যবহার করা শ্রেয়।
মডেল নির্বাচনে সতর্কতা
কানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইয়ার বাড বা ইন-ইয়ার মডেলের চেয়ে ‘ওভার ইয়ার’ হেডফোন বেশি নিরাপদ। ইয়ার বাড সরাসরি কানের পর্দার খুব কাছে শব্দ পৌঁছে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে চাপের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, ওভার ইয়ার মডেলের শব্দ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বলে কানের পর্দার ওপর সরাসরি চাপ কম পড়ে।
৬০/৬০ নিয়ম
কানে হেডফোন ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হল ৬০/৬০ নিয়ম। ডিভাইসের শব্দের মাত্রা অর্থাৎ ভলিউম ৬০ শতাংশের বেশি রাখা মোটেই নিরাপদ নয়। পাশাপাশি, সারাদিনে টানা ৬০ মিনিটের বেশি হেডফোন ব্যবহার করা অনুচিত। খেয়াল রাখুন, হেডফোন ব্যবহারের সময় বাইরের শব্দ বা হর্ন যদি একদমই শুনতে না পান, তবে বুঝবেন শব্দের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে।

