হলদিবাড়ি: এক পলক দেখলে মনে হবে, মেলা বসেছে। ত্রিপল দিয়ে ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর। তা ঘিরে মাঠজুড়ে মানুষের ভিড়। পরিবেশটা অস্বাস্থ্যকর। চারিদিকে পড়ে রয়েছে খাবারের উচ্ছিষ্ট। তার মধ্যেই লাইনে দাঁড়িয়ে মায়েরা। কোলে থাকা শিশুদের কান্নার রোল। এই চিত্র হলদিবাড়ি বিডিও অফিসের সামনের মাঠটির। এভাবে সেখানে চলছে এসআইআর-এর শুনানি। ন্যূনতম পরিষেবাটুকুও সেখানে না থাকায় নাগরিকরা ক্ষুব্ধ।
দু’দিন আগেই সেই মাঠে প্যান্ডেল করে বসেছিল বিয়ের আসর। প্যান্ডেল খুলে নেওয়া হলেও ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের উচ্ছিষ্ট সহ আবর্জনা। তা মাড়িয়েই চলছেন মানুষ। আবর্জনার পাশে বসে শুনানির কাজ করতে দেখা গেল যুগ্ম বিডিও অলকরঞ্জন বসাককে। উচ্ছিষ্ট থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পথকুকুর সেসব টানাটানি করছে। আবর্জনার মধ্যে বসিয়ে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়াতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে আসা দেবারু মহম্মদ বলেন, শিবিরে পানীয় জল, শৌচাগার, এমনকি রোদ থেকে বাঁচতে শেডের ব্যবস্থাও নেই। শিশুদের দুগ্ধপান করানোর জন্য পৃথক জায়গাও নেই।
কোলে শিশু নিয়ে হেমকুমারী পাটোয়ারিপাড়া থেকে আসা লাভলি বেগম বলেন, তিন মাসের শিশুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। আবর্জনায় বসে খাবার তৈরি করে শিশুকে খাওয়াতে হল।
তৃণমূল যুবর টাউন কমিটির সভাপতি প্রদীপ সিনহা বলেন, ছয়জন ভাইবোন থাকায় হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তুলি খাতুনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি নূপুর বর্মনও ডাক পেয়েছেন। চারিদিকে দুর্ভোগ। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রশান্তকুমার রায় বলেন, স্যালাইন সহ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের শুনানিতে আসতে হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক বয়স্ক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কিন্তু এখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকু নেই।
যদিও বিডিও রেনজি লামো শেরপা ফোন না ধরায় বক্তব্য মেলেনি। তবে ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে মাঠে শিবির করে শুনানির ব্যবস্থা করার জন্য সবদিক ম্যানেজ করা সম্ভব হয়নি।

