উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ফর্ম বিলি ও সেই ফর্ম সংগ্রহ করে ডিজিটাইজেশন অর্থাৎ অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করার কাজ শেষ হয়েছে। তাতে দেখা গেছে রাজ্যে খসড়া তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। তবে এই সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকা নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কমিশনকে জানানো যাবে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করবে কমিশন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে অভিযোগকারীকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিয়ারিং হবে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।
তবে কাদের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে আর কারা শুনানিতে ডাক পাবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে যা জানা গেছে তা হল, সমস্ত ভোটারদের ৩ টি ক্যাটিগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এক হচ্ছে নিজস্ব ম্যাপিং, যাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে তারা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় আছেন। এদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকার ক্ষেত্রে খুব একটা সংশয় নেই। দ্বিতীয় হচ্ছে, ‘প্রজেনি ম্যাপিং’। যাদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, কিন্তু বাবা-মা, দাদু-ঠাকুমা বা অন্য কারও নাম দিয়ে এনুমারেশন ফর্মে আবেদন করেছেন তারা এই ভাগে পড়েন। এরপরই থাকছে ‘নো ম্যাপিং’। অর্থাৎ এই দুই ভাগের কোনওটাতেই পড়েন না এমন আবেদনকারী ভোটাররা এই তৃতীয় ভাগে থাকবেন। এদের সকলকেই হিয়ারিং বা শুনানিতে ডাকা হবে বলে সূত্রের খবর। তবে সন্দেহজনক মনে হলে আগের ২ তালিকা থেকেও শুনানিতে ডাকা হতে পারে।
এখনও পর্যন্ত যেটুকু জানা গেছে, তাতে রাজ্যে মোট ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ মৃত ভোটারের খোঁজ পাওয়া গেছে। ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন। আর ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৭৫ জন ডুপ্লিকেট বা ভুয়ো ভোটারের সন্ধান মিলেছে। অন্যান্যদের তালিকায় রয়েছে ৫৭ হাজার ৫০৯ জনের নাম। সব মিলিয়ে ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে।

